২৯ জুলাই ২০২৬, ১৭:২৬

রাকসু ও শিবিরের বিচার দাবি রাবি শিক্ষক নেটওয়ার্কের

শিক্ষক নেটওয়ার্ক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখতিয়ার বহির্ভূত তৎপরতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছেন শিক্ষক নেটওয়ার্ক। 

গত ২৭ জুলাই সংঘটিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও শিবিরের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর করেন। পরে হামলার শিকার দুই শিক্ষার্থী—ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

আবেদনে তারা দাবি করেন, প্রক্টর অফিস, রাকসু ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং এমনকি অ্যাম্বুলেন্স থেকে আহত ব্যক্তিকে নামিয়ে পুনরায় মারধরের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অভিযোগের তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কোনো ছাত্রসংগঠন বা ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে 'মব জাস্টিস'-এর শিকার করা আইনের শাসনের জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন তারা।

লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচনের পর থেকে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তাঁর সহযোগীরা বারবার এখতিয়ারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।

এ ছাড়া প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে হামলার সময় রাকসুর ভিপি ও জিএসকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে উসকানি দিতে দেখা গেছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।

তাদের ভাষ্য, শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিচার করা ‘জুলাইয়ের গণতান্ত্রিক চেতনার’ পরিপন্থী। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোই গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।

আবেদনের শেষাংশে তারা বলেন, অতীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের, কোনো ছাত্রসংগঠন বা রাকসুর নয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।