রাবিতে ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইন্টারনেট ব্যবস্থার উন্নয়ন ও গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘আরইউ স্ট্রেন্থেনিং ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ (HEAT) প্রকল্পের আওতায় ১৩ কোটি ২০ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া প্রকল্পটি কোনো ধরনের সংশোধন ছাড়াই অনুমোদন পেয়েছে।
এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টার ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) যৌথ উদ্যোগে ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তা নিরূপণে একটি জরিপ পরিচালনা করে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন)। ওই জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য বাজেট নির্ধারণ করে তা অনুমোদনের জন্য ইউজিসির কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্টের মধ্যে HEAT প্রকল্পের কর্মকর্তারা রাবি আইসিটি সেন্টারের সঙ্গে সমন্বয় করে পূর্বে দেওয়া চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্পটির বিস্তারিত কারিগরি স্পেসিফিকেশন তৈরি করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষে ই-জিপি পোর্টালে অনলাইন দরপত্র আহ্বান করা হবে।
দরপত্র আহ্বানের পর প্রকিউরমেন্টের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করে উপযুক্ত কোম্পানি বা ভেন্ডর নির্বাচন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। সব প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে ক্যাম্পাসে প্রকল্পটির মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটির পুরো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টার।
হলের ইন্টারনেট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন রাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তোফা। তিনি জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসের হলগুলোতে ইন্টারনেট সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা কাজ শুরু করি। বিডিরেনের ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন আবাসিক হলে সরেজমিনে সার্ভে করা হয়।
তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, সেই সার্ভে ও আমাদের আবেদনের ভিত্তিতেই আইসিটি সেন্টারের সহযোগিতায় প্রাথমিক এই খসড়া বাজেট ও প্রস্তাবনাটি তৈরি করে ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টা শেষে ১৩.২১ কোটি টাকার এই বাজেটটি কোনো সংশোধন ছাড়াই অনুমোদন পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দ্রুতই লাঘব হবে।
হিট প্রজেক্টের আওতায় বিডিরেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কাজ বাস্তবায়িত হবে বলে আশ্বাস দেন রাবি আইসিটি সেন্টারের পরিচালক মো. ছাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট অবকাঠামোর স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রতিটি হলে রাউটারের বদলে মানসম্মত এক্সেস পয়েন্ট বসানো জরুরি। আমরা গত ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রয়োজনীয় জরিপ ও রিপোর্ট সম্পন্ন করে উপাচার্যের অনুমোদনে ইউজিসিতে জমা দিয়েছিলাম। ‘হিট’ প্রজেক্টের আওতায় বিডিরেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কাজ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।