গবেষণায় দেশসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাবি
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজ্ঞানবিষয়ক শীর্ষস্থানীয় সাময়িকী নেচারের সর্বশেষ প্রকাশিত নেচার ইনডেক্স-এ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিকমানের গবেষণা প্রকাশনা, গবেষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জ্ঞানসৃষ্টিতে ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এই গৌরব অর্জন করেছে।
নেচার ইনডেক্সের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গবেষণার মানের নিরিখে বিশ্বের ১৯৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ গত বছরের ৬১তম স্থান থেকে ৭ ধাপ এগিয়ে বর্তমানে ৫৪তম অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। তবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ আগের বছরের মতো এবারও ১৩তম স্থান ধরে রেখেছে। বিশ্বের ১৭৮টি বিশ্বমানের বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে ১ মার্চ ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণাপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই সূচক প্রণয়ন করা হয়।
প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশের গবেষকদের মোট ১৪৩টি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং অবদানের হার (Share) দাঁড়ায় ৩৫.৭৪ শতাংশ। এর মধ্যে দেশীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এককভাবে সর্বোচ্চ ২১টি উচ্চমানের গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করে প্রথম স্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। উল্লেখ্য, গবেষণাপ্রতিষ্ঠানসহ সামগ্রিক তালিকায় ৩৭টি নিবন্ধ নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গৌরবময় অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নেচার ইনডেক্সে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আমাদের শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের নিরলস প্রচেষ্টার ফসল। আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানচর্চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে দেশে নেতৃত্ব দিচ্ছে, এই ফলাফল তার অনন্য প্রমাণ।”
তিনি আরও যোগ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও জনস্বাস্থ্যের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় একবিংশ শতাব্দীতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং গবেষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।