নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, ঢাবির ক্যান্টিনে তালা দিল হল সংসদ
খাবারের নিম্নমান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং হল প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের মেইন ক্যান্টিন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে হল সংসদ। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ক্যান্টিনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ।
হল সংসদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ১০ মাস ধরে হল মেইন ক্যান্টিনের খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক অব্যবস্থাপনা নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবে ক্যান্টিনের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বা মানোন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি।
বিবৃতিতে হলের হাউজ টিউটরদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করা হয়, ক্যান্টিন পরিদর্শনের জন্য হাউজ টিউটরদের নির্ধারিত সূচি ও দায়িত্ব থাকলেও তারা নিয়মিত তদারকিতে আসেন না এবং ক্যান্টিনের খাবারও গ্রহণ করেন না। ফলে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি কার্যত অনুপস্থিতই থেকে গেছে। এই উদাসীনতার বিষয়টি একাধিকবার হল প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
হল সংসদ আরও জানায়, ক্যান্টিনে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এর আগে লিখিত স্মারকলিপি দিয়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু হল প্রশাসন প্রথমে মাত্র ১ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে ২ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে, যা ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের অনিয়মের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
নেতৃবৃন্দের স্পষ্ট বক্তব্য, সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে মূল্য দিয়ে খাবার কিনছেন, সেই মূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ গুণগত মান, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মেইন ক্যান্টিন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। প্রশাসন দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ নিলেই কেবল এটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) আহসান হাবীব ইমরোজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা দ্রুতই প্রশাসন ও ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব। যদি বর্তমান ক্যান্টিন মালিক পক্ষ বিদ্যমান সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করতে সক্ষম হন, তাহলে তারাই এটি পরিচালনা করবেন। অন্যথায়, প্রশাসন বিকল্প কোনো দক্ষ ও পেশাদার কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেবে এবং হল সংসদ এই প্রক্রিয়ায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’
হলের মেইন ক্যান্টিন আকস্মিক বন্ধ থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাময়িক ডাইনিং ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যেন কষ্ট না হয়, সেজন্য হলের অন্যান্য ক্যান্টিন ও খাবারের দোকানগুলোকে রান্নার পরিমাণ এবং খাবারের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
হল প্রশাসনের পদক্ষেপের বিষয়ে ভিপি ইমরোজ বলেন, ‘হল প্রভোস্টের সঙ্গে আমাদের বিস্তারিত কথা হয়েছে এবং পুরো সংকটটি তাকে জানানো হয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ক্যান্টিন মালিক পরিবর্তনই হল সংসদের মূল লক্ষ্য কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ক্যান্টিন মালিক পরিবর্তন করা নয়। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার নিশ্চিত করা। এর জন্য হল প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর তদারকিমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রশাসনের জবাবদিহি ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত হলে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষও আইন মানতে বাধ্য হবে।’
এদিকে, ক্যান্টিনে তালা দেওয়া ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।