০৭ জুলাই ২০২৬, ২০:৫৪

প্রশাসনের বাধায় আটকে আছে ২ ডজন প্রকল্প, অভিযোগ ডাকসু ভিপির

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ইনসেটে নথিপত্র  © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মহলের বাধার কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য অনুমোদিত প্রায় দুই ডজন প্রকল্প বাস্তবায়ন আটকে আছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র সংযুক্ত করে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ফেসবুক পোস্টে আবু সাদিক কায়েম দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে একাধিক প্রকল্প অনুমোদিত হলেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসনের অসহযোগিতা ও বিভিন্ন পর্যায়ের বাধার কারণে প্রায় দুই ডজন প্রকল্প স্থবির হয়ে আছে।

তিনি জানান, আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাকসু ও আইসিটি বিভাগের সমন্বয়ে আবাসিক হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, আইটি প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠাসহ ছয়টি বড় প্রকল্প।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি প্রকল্পও অগ্রগতি পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসবের মধ্যে রয়েছে স্যার এ. এফ. রহমান হলের প্রবেশদ্বার নির্মাণ, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার, ক্যাম্পাসের পুকুরের পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, লাইটিং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।

অভিযোগ অনুযায়ী, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন এলাকায় ক্যান্টিন স্থাপন, বড় আকারের টেকসই ডাস্টবিন বসানো এবং প্রায় দুই কোটি টাকার ক্যান্টিন প্রকল্পও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও সুপারিশ পাওয়ার পর বাস্তবায়ন হয়নি।

এ ছাড়া ক্যাম্পাসে নিবন্ধিত রিকশা ব্যবস্থা চালু, দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ, পুরোনো যানবাহন নিলামে বিক্রি করে নতুন দুটি মিনিবাস ও দুটি মাইক্রোবাস কেনা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এর অর্থায়নে দুই কোটি টাকার মাঠ সংস্কার এবং মাঠের ডিজিটাল সার্ভের কাজও নানা অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-এর সঙ্গে ভর্তুকি মূল্যে ক্যান্টিনে খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগ, পাবলিক ওয়াশরুম নির্মাণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে কলাভবন পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, আবাসিক হলগুলোতে বাগান স্থাপন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, আসবাবপত্র সরবরাহ, হল মসজিদ উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে লাইব্রেরি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) স্থাপনের প্রকল্পও বাস্তবায়ন হয়নি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও ‘অল ইন ওয়ান ডিইউ অ্যাপ’ তৈরির প্রস্তাব, কার্জন হল এলাকায় নতুন ক্যান্টিন ও প্রক্টরিয়াল অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে স্থবির হয়ে যায়। পাশাপাশি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ছাত্রহলের মসজিদ সংস্কারের জন্য প্রতি হলে এক লাখ টাকা বরাদ্দ এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে একটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘নতুন সরকার আসার পর থেকে কী কারণে এসব প্রকল্প বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা আমরা পাইনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অনুমোদিত এই শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্পগুলো যদি কেবল দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বন্ধ করা হয়, তাহলে তা নতুন ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতিরই জন্ম দেবে। দেশের আপামর ছাত্রসমাজের জানা উচিৎ, শহীদের রক্ত পেরিয়ে পাওয়া শিক্ষার্থীদের অধিকারটুকুও বর্তমান সরকার কেবল দলীয় স্বার্থ চরিতার্থের লক্ষ্যে ছিনিয়ে নিতে কুণ্ঠাবোধ করছে না।’