ঢাবিতে ‘প্রভোস্ট হারানো বিজ্ঞপ্তি’, শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীম উদ্দীন হলের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও শিক্ষার্থীদের মৌলিক দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আজ রবিবার (৫ জুলাই) হল সংসদের উদ্যোগে ‘প্রভোস্ট হারানো বিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামে একটি প্রতীকী ‘হারানো বিজ্ঞপ্তি’ টানিয়ে তারা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মৌলিক দাবি দীর্ঘদিন ধরে হল প্রশাসনকে জানানো হলেও সেগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ‘প্রভোস্ট হারানো বিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হল ক্যান্টিনের নাজুক অবস্থা থাকলেও তা সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি হল দোকানের স্টাফ সিন্ডিকেট বন্ধ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, সাইকেল গ্যারেজের অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ, আবাসিক শিক্ষার্থীদের পানির সংকট নিরসন এবং সিট সংকট সমাধানেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
এছাড়া ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলের অংশের প্রায় ৬০ লাখ টাকার সংস্কারকাজ পাঁচ মাসেও শেষ হয়নি বলে দাবি করা হয়। কম্পিউটার ল্যাবের জন্য কম্পিউটার বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনীয় চেয়ার-টেবিল না থাকায় ল্যাব চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে হল মাঠ ব্যবহারের নির্ধারিত ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল আদায় এবং মাঠে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের বিরুদ্ধেও প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
এ বিষয়ে জসীমউদ্দীন হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রভোস্ট স্যার গত এপ্রিল মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মৌলিক দাবি নিয়ে তাঁর কাছে বারবার গেছি। প্রতিবারই তিনি বলেছেন, ‘হয়ে যাবে’, ‘কাজ চলছে’। কিন্তু দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও অধিকাংশ দাবির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমরা একাধিকবার শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো নিয়ে তাঁর সঙ্গে বসতে চেয়েছি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি। একজন হল প্রভোস্ট হিসেবে শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব। বারবার আশ্বাস পেলেও বাস্তবে সেই কাজের প্রতিফলন আমরা দেখছি না।
জিএস বলেন, হলের মৌলিক সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে পানির সংকট, ক্যান্টিনের সমস্যা, দোকান ব্যবস্থাপনার অনিয়মসহ বিভিন্ন ভোগান্তি। এমনও হয়েছে, টানা প্রায় ১০ দিন নিয়মিত পানি সরবরাহে সমস্যা ছিল। আবাসিক শিক্ষার্থীরা যদি ন্যূনতম মৌলিক সুবিধাই না পান, তাহলে হলে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এখনো কোনো আল্টিমেটাম দিইনি। এটি ছিল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। আমরা আশা করছি, স্যার দ্রুত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবেন। যদি এরপরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হয়, তাহলে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যই কাজ করছি।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জসীম উদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এস এম আরিফ মাহমুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেসব দাবি তুলেছে, সেগুলোর প্রায় প্রতিটি নিয়েই কাজ চলমান রয়েছে। আমি এপ্রিল মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হলের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, হল ক্যান্টিনের বিষয়টি শুধু জসীমউদ্দীন হলের নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি হলেই কমবেশি ক্যান্টিন-সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। এ বিষয়েও আমরা কাজ করছি।
প্রভোস্ট আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা হলে তারা যেন সরাসরি আমার অফিসে এসে জানায়, সে সুযোগ আমি সবসময় রেখেছি। যেকোনো সময় তারা আমার সঙ্গে দেখা করে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, হল সংসদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা হয়। এরপরও তারা কেন এ ধরনের কর্মসূচি নিয়েছে, তা আমি জানি না। তবে এটি তাদের প্রচারণার অংশ হতে পারে বলে আমার মনে হয়।