জাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের গোপনে ছবি তোলায় সাবেক যুবদল নেতা আটক, স্বীকারোক্তির পর মুচলেকায় মুক্ত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে দেবাশীষ চৌধুরী নামে এক সাবেক যুবদলে নেতাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যান (মদ) উদ্ধার করা হয়। পরে লিখিত স্বীকারোক্তি, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে আর কখনও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করার মুচলেকা দেওয়ার শর্তে তাকে ছেড়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শুক্রবার (২ জুলাই) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা সূত্রে জানা যায়, আটক দেবাশীষ চৌধুরী ঢাকার ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। ঘটনার সময় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজার সঙ্গে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, বটতলা এলাকায় অবস্থানকালে তিনি দুই নারী শিক্ষার্থীর অজান্তে ছবি তোলেন। বিষয়টি টের পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যান।
নিরাপত্তা অফিসে দেওয়া লিখিত স্বীকারোক্তিতে দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘আমি বটতলায় খাওয়া-দাওয়া করেছি। খাওয়া-দাওয়ার পরে আমি কিছু মেয়ের গোপনে ছবি তুলেছি। এই ছবিগুলো আমার তোলা ঠিক হয়নি। আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আর কখনও আমি ছবি তুলতে ক্যাম্পাসে আসব না। এমনকি পুরো বাংলাদেশে আর কখনও কারও অনুমতি ছাড়া এভাবে ছবি তুলব না।’
এ সময় দেবাশীষ চৌধুরী ও তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যান (মদ) উদ্ধার করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে সেগুলো ধ্বংস করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ওই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বটতলায় এসেছিলেন। সেখানে দুই শিক্ষার্থীর ছবি তোলার অভিযোগ ওঠার পর তাকে নিরাপত্তা অফিসে আনা হয়। পরে তার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। তিনি নিঃশর্তে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আর কখনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত গাড়িও আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে না। এসব শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’