০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৭

‘১০০ বছর আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আর আজকের বিজ্ঞপ্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই’

অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন ও ঢাবির লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ বছর আগের শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আর বর্তমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। তিনি বলেছেন, এই এক শতকে বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের শর্ত, পদোন্নতি নীতিমালা ও বেতন কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন লিখেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ বছর আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আর আজকের শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখলে কোনো পার্থক্য পাবেন না। অথচ বিশ্বে এই ১০০ বছরে শিক্ষক নিয়োগের শর্তের আমূল পরিবর্তন ঘটে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘ইউনিভার্সিটি হতে হলে শিক্ষক নিয়োগের শর্ত থেকে শুরু করে, প্রমোশন নীতিমালা ও বেতন মোট দাগে ইউনিভার্সাল হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রমোশন নীতিমালা ও বেতন কাঠামোকে বিশ্বমানের যথার্থতা নিশ্চিত করে ইউনিভার্সাল, স্বচ্ছ ও পারফরম্যান্সভিত্তিক না করার কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধঃপতন।’

আরও পড়ুন: কোনো শিক্ষক নির্বাচন করতে চাইলে আগে চাকরি ছেড়ে দিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিকতা ও গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে উপরে তুলতে চাই, তাহলে অতি শীঘ্র প্রতিভা আকর্ষণ, গবেষণায় উদ্দীপনা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য ইউনিভার্সাল নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন ছাড়া কেউ টিকে থাকতে পারে না, উন্নত হতে পারে না।’

স্ট্যাটাসে অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, ‘পরিবর্তন ও বিবর্তন উন্নতি ও টিকে থাকার শর্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি প্রযোজ্য। প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে শিক্ষা নকশা, গবেষণা অগ্রাধিকার, শাসনব্যবস্থা ও শিক্ষাদানের পদ্ধতি নতুন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও সমাজের চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। অবিচল সংস্কার গৃহীত হলে একাডেমিক উৎকর্ষতা বজায় থাকে, প্রতিভা আকৃষ্ট হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিশ্চিত হয়।’