০১ জুলাই ২০২৬, ১৭:১৪

ছাত্রদলের ফর্ম পূরণ করলে হল সুবিধা, সাংবাদিককে বললেন— ‘আমার আব্বা সাংবাদিক, আইনমন্ত্রী এলাকার’

ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমান  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

ছাত্রদলের ফর্ম পূরণ করলে হল সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। গত ৯ জুনে নবীন শিক্ষার্থীদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে দেওয়া এই বার্তার স্ক্রিনশট সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 

অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীর নাম তানিম রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জানা যায়, ক্যাম্পাসে আসার পর থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুলের অনুসারী।

অভিযোগের বিষয়টি তানিম রহমান অস্বীকার করলেও ওই গ্রুপে থাকা দুই শিক্ষার্থী বার্তাটি দেখার কথা নিশ্চিত করেছেন। 

শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য ও স্ক্রিনশটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুন 'ঝিনাইদহ রাবি-৭৩' নামে একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তানিম রহমানের ফেসবুক আইডি থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘যদি কেউ ছাত্রদলের রাজনীতিতে আগ্রহী থাকো বা জাতীয়তাবাদী পরিবারের হও, কিছুদিনের মধ্যে ফর্ম ছাড়বে, পূরণ করতে পারো। হল সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা পেতে পারো।’ এর পরের ম্যাসেজেই তিনি লিখেন, ‘প্রথম সেমিস্টার থেকেই হল পাওয়া সম্ভব।’ অপর ম্যাসেজে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারে। যেখানে তার নিজের ফোন নাম্বার দেওয়া হয়। নাম্বারটি হলো- ০১৩৪৪-...৩৪৮৭। 

জানা গেছে, তার এই বার্তা দেখার পরপরই গ্রুপে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টির প্রতিবাদ করেন। যার প্রমাণও মেলে ওই স্ক্রিনশটে।

এ বিষয়ে ওই গ্রুপে থাকা দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, হ্যাঁ, মেসেজটি তিনিই (ছাত্রদল কর্মী তানিম) দিয়েছিলেন। মেসেজটি দেওয়ার সাথে সাথে এক শিক্ষার্থী প্রতিবাদও করেছিল। গ্রুপে রাজনৈতিক কোনো নোটিশ দিতে মানা করলে তানিম (অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী) দুঃখপ্রকাশও করেন।

ওই গ্রুপে থাকা আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি নিজেও মেসেজটি দেখেছি। সেখানে ছাত্রদল করলে হল সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ ছিল। তবে কয়েকদিন পর তানিম মেসেজটি ডিলিট করে দেয় এবং পরে গ্রুপ থেকেও বের হয়ে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তানিম রহমান বলেন, আমি এমন কিছু জানি না। এই প্রথম আপনার কাছ থেকে শুনলাম। আমি নতুন শিক্ষার্থী। আমি এমনটা কেন করব? আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল। ফোনও হারিয়ে গিয়েছিল।

আইডি হ্যাক হওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ফেসবুকে জানিয়েছিলাম। তবে কোনো জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করিনি।

তবে বিষয়টি যাচাই করে দেখা যায়, তানিম রহমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি জানিয়ে পোস্ট করা হয় গত ২০ জুন। অথচ মেসেঞ্জারে বার্তাটি পাঠানো হয়েছিল ৯ জুন। এছাড়া ৮ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত পোস্ট করা হয়েছে।

তানিম রহমান দাবি করেন, এমন কিছু ঘটলে তিনি নিজেই ফেসবুকে জানাতেন যে তার নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি 'ঝিনাইদহ রাবি-৭৩' নামে কোনো মেসেঞ্জার গ্রুপ তিনি চিনেন না বলেও দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এসব প্রকাশ করলে আমি আপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব। আমার আব্বা সাংবাদিক, আইনমন্ত্রী আমার এলাকার।

এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুলকে একাধিকবার কল এবং হোয়াট্সঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি। 

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রভোস্ট বলতে পারবে না যে, আমরা কোনোসময় হলের সিটের জন্য রিকুয়েস্ট করেছি। আর আমাদের ছাত্রদলের ফর্ম ছাড়ার কোনো তথ্য বা নির্দেশনা নেই আপাতত, ফর্ম পূরণ করবে কীভাবে?