গবেষণার বরাদ্দ বিশ্ববিদ্যালয়কে না দিয়ে ইউজিসির কাছে রাখায় স্বায়ত্তশাসন খর্ব হবে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অনুমোদিত বাজেটে শিক্ষার্থীদের স্বার্থের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি বলে দাবি করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। একই সঙ্গে গবেষণা খাতের অর্থ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়কে না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে রাখার সিদ্ধান্ত স্বাধীন গবেষণাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব করবে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
বুধবার (১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক আকাশ আলী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বাজেটের ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ বেতন, ২১ দশমিক ৭ শতাংশ ভাতা, ২১ দশমিক ৬ শতাংশ পণ্য ও সেবা এবং ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ পেনশন ও অবসর সুবিধা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফলে মোট বাজেটের প্রায় ৮৯ দশমিক ৩ শতাংশই এ চারটি খাতে ব্যয় হবে।
সংগঠনটি জানায়, মোট বাজেটের ৮৩ দশমিক ৭ শতাংশ আসবে ইউজিসি থেকে, ৮ দশমিক ২ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় এবং ৮ দশমিক ১ শতাংশ বাজেট ঘাটতি হিসেবে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উৎস থেকে ৮৫ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষণা অনুদানের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে এবার গবেষণার অর্থ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়কে না দিয়ে ইউজিসির মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মোজাম্মেল হক ও আকাশ আলী বলেন, এ বাজেটে শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো, যেমন গবেষণা, আবাসন, খাদ্য, চিকিৎসা ও পরিবহন পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। বরাদ্দ না বাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যয় আরও বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতির এই সময়ে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবে।
নেতৃদ্বয় বলেন, এশিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের মোট বাজেটের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ মৌলিক ও ফলিত গবেষণায় ব্যয় করে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বরাদ্দ খুবই সীমিত। তার ওপর গবেষণার অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে ইউজিসির কাছে রাখার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী এবং স্বাধীন গবেষণায় হস্তক্ষেপের শামিল।
আরও পড়ুন : ঢাবিতে কীভাবে অনার্স ভর্তি বন্ধ করা যায়, ভাবতে হবে
তারা বলেন, কোন বিষয়ে গবেষণা হবে এবং কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় হবে, তা নির্ধারণের পূর্ণ অধিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই এক্তিয়ার কোনোভাবেই খর্ব করা উচিত নয়। গবেষণা খাতের বরাদ্দ অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, ইউজিসির কাছে নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষা মানুষের মৌলিক ও মানবিক অধিকার। কিন্তু পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ না দিয়ে সরকার উচ্চশিক্ষাকে সংকুচিত করছে এবং ধীরে ধীরে বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানোর নামে বেতন, ভর্তি ফি, আবেদন ফি ও অন্যান্য ফি বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক কোর্স চালু, বিভিন্ন অবকাঠামো ভাড়া দেওয়া এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানোর প্রবণতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক ধারণা ও একাডেমিক স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করা হয়।
শেষে নেতৃদ্বয় গবেষণা, শিক্ষা ও শিক্ষার্থী স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে গবেষণা খাতের বরাদ্দ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাখার দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।