০১ জুলাই ২০২৬, ০০:১৯

জ্ঞানচর্চার এক উজ্জ্বল কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ডা.শফিকুর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

আজ বুধবার (১ জুলাই) ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিবৃতিতে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক কারিকুলামের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

শুভেচ্ছা বাণীতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলাম জ্ঞানার্জনকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে প্রশ্ন রেখেছেন, ‘যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?’ (সূরা যুমার ৩৯:৯)। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জ্ঞান অন্বেষণকে প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ করেছেন। সেই জ্ঞানচর্চারই এক উজ্জ্বল কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে আমীরে জামায়াত বলেন, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পূর্ব বাংলার শিক্ষা-বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সামনে অগ্রগতির নতুন সম্ভাবনা এনে দিলেও ১৯১১ সালে তা রদ হলে এই অঞ্চল আবারও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় পড়ে। সেই বঞ্চনার ক্ষতিপূরণ ও শিক্ষায় অগ্রগতির দাবিতে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর অগ্রণী নেতৃত্বে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং প্রগতির প্রধান বাতিঘর হিসেবে কাজ করে আসছে। আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। একটি সুপ্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অপরিসীম। আমরা বিশ্বাস করি, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মুক্তচিন্তার অবাধ চর্চার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় এমন এক প্রজন্ম গড়ে তুলবে যারা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক কারিকুলামের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা জরুরি। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

বিবৃতির শেষে ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য প্রার্থনা করেন।