০১ জুলাই ২০২৬, ০০:১৭

১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  © টিডিসি সম্পাদিত

বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নানা আন্দোলন-সংগ্রাম, চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেই এ বিশ্ববিদ্যালয়টি ১০৬ বছরে পদার্পণ করল আজ বুধবার। ১৯২১ সালের এই দিনে (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিবারের মতো বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এবারও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দিবস উদ্‌যাপন করা হবে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’।

দিবসটি উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে আজ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ সকাল ৯.৩০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল ও হোস্টেল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শোভাযাত্রা সহকারে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হবেন। সেখান থেকে সকাল ৯.৪৫ মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশ নেবেন। 

সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখস্থ চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা উত্তোলন এবং কেক কাটা হবে। এসময় সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং এবং রবীন্দ্র সংগীত ও নজরুল সংগীত পরিবেশিত হবে। এছাড়া, বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অন্য একটি সংগীত পরিবেশিত হবে।

সকাল ১০.৩০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে আজ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্লাসসমূহ বন্ধ থাকবে, তবে পরীক্ষাসমূহ যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে বিকাল ৩টায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ প্যানেল আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখবেন।  

দুপুর ২.৩০টা থেকে ক্যাম্পাসে যানবাহন প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আজ বেলা ২.৩০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যানবাহন প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। উল্লিখিত সময়ে শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, শিববাড়ি ক্রসিং, ফুলার রোড ও নীলক্ষেত প্রবেশপথে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি এবং জরুরি সেবা (অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, রোগী, সাংবাদিক, রাইড শেয়ার, খাবার গাড়ি, অনলাইন শপিং বাহনসহ অন্যান্য সরকারি গাড়ি) ব্যতীত অন্য যানবাহন ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। পলাশী থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে হাইকোর্ট মোড়ের রাস্তা উন্মুক্ত থাকবে। তবে গণপরিবহণ এবং ভারী যানবাহন প্রবেশ সবসময়ই নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গৌরবের। এ উপলক্ষ্যে আমি সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

বাণীতে তিনি আরও বলেন, ১৯২১ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে। অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা। এক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এক বাণীতে বলেন, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পূর্ব বাংলার শিক্ষা-বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সামনে অগ্রগতির নতুন সম্ভাবনা এনে দিলেও ১৯১১ সালে তা রদ হলে এই অঞ্চল আবারও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় পড়ে। সেই বঞ্চনার ক্ষতিপূরণ ও শিক্ষায় অগ্রগতির দাবিতে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর অগ্রণী নেতৃত্বে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং প্রগতির প্রধান বাতিঘর হিসেবে কাজ করে আসছে। আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। একটি সুপ্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অপরিসীম। আমরা বিশ্বাস করি, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মুক্তচিন্তার অবাধ চর্চার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় এমন এক প্রজন্ম গড়ে তুলবে যারা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।