৩০ জুন ২০২৬, ১৭:১২

শিক্ষাখাতে ২৫ ভাগ বাজেট বরাদ্দের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

ঢাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের বিক্ষোভ মিছিল  © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে বাজেটের ২৫ ভাগ বরাদ্দের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন)  বেলা সাড়ে ১২ টায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশ ‎বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহ-সভাপতি নাঈম উদ্দিন বলেন ‘কোনো কিছুই শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গির বাহিরে নয়। শিক্ষা সম্পর্কে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায় না বলে সরকার বদলালেও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ে না।’

এ সময় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা বলেন, ‘সমতল এবং পাহাড়ের সংখ্যালুঘু শিক্ষার্থীরা বরাবরই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, বৈষম্যের শিকার। পার্বত্য চট্টগ্রামে এই বৈষম্যটা আরো বেশি। দুর্গম অঞ্চলের পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা আরো প্রাথমিক স্তরেই ঝড়ে যায়। সরকার শিক্ষাখাতে  পর্যাপ্ত বরাদ্ধ না রেখে সামরিক খাতে বাজেট বাড়িয়েছে। পাহাড়ে সেনাশাসন-নিপীড়ন ঠিকিয়ে রাখতে এই বরাদ্ধ ব্যয় করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী অতি সম্প্রতি রামগড় ও গুইমারাসহ বিভিন্ন স্থানে ইউপিডিএফ নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এর জবাব সরকার ও রাষ্ট্র থেকে চাইতে হবে। সংখ্যালুঘুদের জাতিগত পরিচয় কেড়ে নিতে ২০১১ সালে ৩০জুন পঞ্চদশ সংশোধীনর আইন পাশ করে উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সরকার এখনও সে আইন বাতিল করেনি। পাহাড় সমতলে সংখ্যালুঘুদের শিক্ষার বৈষম্য, দমনপীড়ন জারি রেখে বাংলাদেশ কখনো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না।’

‎সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় বাজেটের প্রধান অর্থদাতা দেশের সাধারণ জনগণ। পরোক্ষ করের বাইরেও শাসকের ঋণের বোঝা বহন করা নাগরিকরা বাজেট নিয়ে মতামত দেয়ার সুযোগ পায় না। এখানে শাসকের উন্নয়ন দর্শন মানে  কতিপয় জটিল, দুর্বোধ্য ও অস্বচ্ছ  সংখ্যাতত্ত্বের সমাহার।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার হাওয়া ভবনের সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারে নি। বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্যে অগ্রাধিকার না দেয়া তার লক্ষণ। বর্তমানে জনগণের পক্ষে কোন বিরোধী দলও নেই। দেশের মানুষ লোডশেডিং এ কষ্ট পায়, গনবিরোধী  মার্কিন চুক্তি হয়ে যায়, শিক্ষা খাতে ২৫ ভাগ বাজেট বরাদ্দ পায় না, এই সংকট নিয়ে কোন পক্ষই কথা বলে না। ছাত্র জনতার দাবি নিয়ে আমাদের লড়াই চলবে।’

আরও পড়ুন : নেই শিক্ষক, সংকট কম্পিউটারের—এক যুগেও পূরণ হয়নি আইসিটি শিক্ষার ঘাটতি

বিক্ষোভ সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায় উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশে শিক্ষা খাত বরাবরই অবহেলিত ও উপেক্ষিত থেকেছে। শিক্ষায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার প্রতিটি স্তর নানারকম সংকট মোকাবেলা করছে। শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর ফলে শিক্ষার ব্যয়ভার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গরিব-নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা শিক্ষার অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছে।’

‎সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘ইউনেস্কো এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশে বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ বা জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা উচিত। এশিয়ার অধিকাংশ দেশ বাংলাদেশের তুলনায় জিডিপির অনুপাতে অনেক বেশি বরাদ্দ দিয়ে থাকে। নগণ্য বরাদ্দের কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং আজ তলানিতে।’

সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘লাইব্রেরিতে নেই আধুনিক রেফারেন্স বই, ল্যাবরেটরিতে নেই প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত আবাসন ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা রাষ্ট্র যথাযথভাবে দিতে পারছে না। এ জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।’

এছাড়াও ‎সমাবেশে নেতৃবৃন্দ মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানান।