প্রক্টরের কাছে পাল্টা ‘নিরাপত্তাহীনতার’ অভিযোগ ঢাবির সেই হল সমাজসেবা সম্পাদকের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে কক্ষের সামনে সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়া, নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রক্টর ও প্রাধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছে শহীদুল্লাহ্ হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজু মিয়া।
রবিবার (২৮ জুন) দুপুর ২টায় প্রক্টর অফিস ও হল প্রাধ্যক্ষ কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন তিনি।
শহীদুল্লাহ্ হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজু মিয়া বলেন, গতকাল রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে শহীদুল্লাহ্ হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. জুনায়েদ আবরারের নেতৃত্বে প্রায় ৯-১০ জন আমার কক্ষের সামনে আসে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে আমার কক্ষের সামনে অবস্থান করে, আমার নাম ধরে খোঁজাখুঁজি ও ডাকাডাকি করে। পরে আমার কক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের কাছে আমার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায়। ঘটনাটি গভীর রাতে সংঘটিত হওয়ায় আমি এবং আমার সহপাঠীরা নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হই।
তিনি আরও বলেন, এর আগে সারাদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পোস্ট, মন্তব্য ও অনলাইন আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালাতে দেখা যায় তাদের। ওই প্রেক্ষাপটে মধ্যরাতে সংঘবদ্ধভাবে আমার কক্ষের সামনে এসে অবস্থান নেওয়ার ঘটনাটি আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে গভীর রাতে শিক্ষার্থীর কক্ষের সামনে সংঘবদ্ধভাবে উপস্থিত হয়ে চাপ বা ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতন বলেন, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নষ্ট করে এমন কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড আমরা সমর্থন করি না, এটা কোনোভাবে সমীচীন না। আর যে অভিযোগগুলো দেওয়া হয়েছে, সে অভিযোগগুলো আমরা খতিয়ে দেখব। যেন সঠিক ও ন্যায্যতা হয় এবং আগামী দিনে যেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, এর জন্য যা করা দরকার, আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
উল্লেখ, গত ২৬ জুন 'নরওয়ে বনাম ফ্রান্স' ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ২০১৭ -১৮ সেশনের মার্কেটিং বিভাগের শাওন-নুসরাত দম্পতি সহ ২০১৬-১৭ ও ২০১৮-১৯ সেশনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন সাবেক শিক্ষার্থী হয়রানি ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন শাওন - নুসরাত দম্পতি। অভিযোগ উঠেছে হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজু মিয়া-সহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই সাবেক শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক হল থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রীক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ গুলো নানা সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মো. সাজু মিয়া বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাত ১২টার সময় একটা আবাসিক হলের ভেতর মেয়ে আসবে এটা কেউ ভালোভাবে নেবে না। তাই প্রথমে হলের স্টাফদের মাধ্যমে তাঁদের চলে যেতে বলা হয়। পরে আমি গিয়ে একই অনুরোধ করি।
সাজুর দাবি, তখনো খেলা শুরু হয়নি এবং বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে হলে নারী প্রবেশ বা খেলা দেখার বিষয়ে হল প্রশাসনের কোনো লিখিত নির্দেশনা বা বিশেষ অনুমতি ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটি সঠিক নয়।