‘চিল কখনো কাকের পেছনে লাগে না, কাক চিলের পিছে লাগে’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ভাইরাল হতে চাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বেসুরো গলায় গান ও বিভিন্ন কনটেন্ট গেয়ে ভাইরাল হওয়া এবং এর ফলে সৃষ্ট সমালোচনার জেরে বাংলা বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে অব্যাহতি ইস্যু আলোচনায় আসার ২৪ ঘণ্টার মাথায় এক ব্যতিক্রমী (মোটিভেশনাল স্পিস) ভিডিও বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি; যেখানে প্রধান্য পেয়েছে ‘চিল ও কাকের’ গল্প। ভিডিওর শুরুতে শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে কবি কামিনী রায়ের বিখ্যাত কবিতার লাইন স্মরণ করিয়ে দিয়ে ঢাবি অধ্যাপক বলেন ‘করিতে পারিনা কাজ সদা ভয় সদা লাজ সংশয় সংকল্প সদা টলে পাছে লোকে কিছু বলে।’ যাদের কাজ নেই, কথা বলাই তাদের কাজ। তাই বলে যারা কাজ করে, তারা কি কাজ থামিয়ে দেয়? কখনোই না। তাদের কথা বলার সময় নেই, প্রয়োজন নেই; তাদের কাজই তাদের হয়ে কথা বলে দেয়।
তিনি আরও বলেন, একনাগারে কাজ করতে করতে মানুষের মধ্যে পরিচিতি তৈরি হয়। কিন্তু চমৎকার একটা ব্যাপার ঘটে তখন; যখন আমার নির্দিষ্ট কাজের পরিচিতির বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের কাজ করতে থাকি। মানুষ এমন ভিন্ন ও নতুন ধরনের কাজ মানতে চায় না। তারা ভাবে, আমি এ ধরনের কাজ কেন করছি? এর আগে তো আমি এমন করিনি। যার যেখানে কাজ করার অধিকার নেই; তারা সেটাকেই মনে করে এটা ভুল। অধিকার আসলে কাজের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
বক্তব্যের শেষে তিনি একটি রূপক ব্যবহার করে বলেন, ‘চিল কখনো কাকের পেছনে লাগে না, কাক চিলের পিছে লাগে। তুমি চিল হও, কাক না।’
উল্লেখ্য, অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে আলোচনায় আসেন। তিনি শাহ আব্দুল করিম, ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস ও ফজলুর রহমান বাবুসহ জনপ্রিয় শিল্পীদের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হন। তার গাওয়া কয়েকটি গান দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
তিনি জানান, ফেসবুকে প্রকাশিত তার গানের রিলগুলো হাজার হাজার ভিউ পাচ্ছে। আগে রান্না বিষয়ক ভিডিও প্রকাশ করলেও তুলনামূলক কম সাড়া মিলেছিল। তবে গান প্রকাশের পর দর্শকসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ফেসবুক থেকে একাধিক ক্রিয়েটর ব্যাজ অর্জন করেছেন।