‘আমার অফিসে আমার চেয়ারে ভিসি-প্রধানমন্ত্রীও বসতে পারে না’
দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রায়শই দেখা যায় জুনিয়র পদমর্যাদার কারও অফিসে গেলে তার চেয়ারে বসে পড়েন। যেটিকে প্রটোকল ভঙ্গ হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমে পেশাদারিত্বের চরম অভাব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও সিনেট সদস্য কামরুল হাসান মামুন।
শনিবার (২০ জুন) এক ফেসবুক পোস্টে দেশের সামাজিক যোগাযোগ পরিসরে ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনা সম্পর্কে লিখতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। তিনি লিখেন, ‘আমার অফিসে আমার চেয়ারে আমি ছাড়া অন্য কেউ আমার ওই চেয়ারে বসতে পারে না। এমনকি ভিসিও যদি আমার অফিসে আসেন তবুও না। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আসলেও না। তাদের জন্য প্রয়োজনে অন্য বিশেষ চেয়ারের আয়োজন করা হবে কিন্তু আমার চেয়ারে বসতে পারে না।’
তিনি আরও লেখেন, ‘একজন ইউএনও স্কুল পরিদর্শনের সময় প্রধান শিক্ষকের অফিসে তার চেয়ারে বসে তাকেই তিরস্কার করছেন। শুধু এখানেই থেমে থাকেননি। পুরো ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য প্রদর্শনীমূলক করে তুলে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করেছেন। আর সব কিছুই করেছেন প্রধান শিক্ষকের স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারী, এমনকি শিক্ষার্থীদের সামনেই।’
প্রশাসনের পেশাদারিত্বে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই হলো আমাদের আমলারা। একটি উপজেলার কর্মকর্তা। আমলা হওয়া অনেক বাকি। তাতেই এই অবস্থা। এই দেশের ইউএনও হলে উপজেলার জমিদার আর ডিসি হলে জেলার প্রধানমন্ত্রী মনে করে।’
শেষে তিনি লেখেন, ‘স্কুলে গেলে স্কুলের প্রধান শিক্ষকই সবচেয়ে সম্মানিত মানুষ। শিক্ষক থেকে ছাত্রে জ্ঞান প্রবাহের জন্য ঢাল লাগে ঠিক যেমন পানির প্রবাহের জন্য লাগে। জ্ঞান প্রবাহের ক্ষেত্রে ঢাল তৈরি হয় সম্মানের মাত্রা দিয়ে। শিক্ষার্থীদের যদি শিক্ষকের প্রতি সম্মান না থাকে জ্ঞান প্রবাহিত হবে না। আমাদের সমাজ শিক্ষকদের সম্মান দিতে জানে না বলেই আজ সমাজের এই অবস্থা। পদে পদে শিক্ষকদের অসম্মান করা হয়। যার ফলে কেউই আর শিক্ষক হতে চায় না। শিক্ষক হলেও কীভাবে সেখান থেকে প্রশাসনিক পদে যাওয়া যায় তার চেষ্টা করে। অথচ শিক্ষকতা একটি অসাধারণ পেশা।’