গবেষণা প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তি, ঢাবির আইবিএ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি
অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় জমাকৃত গবেষণা প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) শিক্ষক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তদন্ত) শেখ আইয়ুব আলী স্বাক্ষরিত জরুরি নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
জরুরি নোটিশে বলা হয়, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে অধ্যাপক পদে আবেদনের সময়ে জমাকৃত প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য উপাচার্য কর্তৃক নিম্নোক্তদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড মোহাম্মদ ইকরামুল হক (আহ্বায়ক), বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন (সদস্য), ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. ইস্রাফিল প্রাং (সদস্য), ঢাকা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. মো. মাজহারুল শাহীন ও অভিযুক্ত ড. মো. রিদওয়াদুল হকের একজন মনোনীত প্রতিনিধি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় ড. রিদওয়ানুল হকের জমা দেওয়া দুটি গবেষণা প্রবন্ধের প্রায় শতভাগ মিল থাকার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই বিতর্ক চলছে। এ নিয়ে অতীতে জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তার পদোন্নতি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তৎকালীন প্রশাসনের প্রভাবে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ এই অনিয়মসহ ড. রিদওয়ানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ সম্বলিত একটি স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেয়। স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর তৎকালীন প্রশাসন বিজনেস অনুষদের ডিনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে মতামত চায়।
তখন বিজনেস অনুষদের ডিন এই অভিযোগকে গুরুতর বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগের সত্যতা বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য আছেন বলে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মতামত নিয়ে নতুন করে তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে অথবা সরাসরি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করার জন্য মতামত দেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন উপদেষ্টার মতামত চাইলে আইন উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মতামত প্রদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।