২৭ মে ২০২৬, ২২:২২

৪ বছর আগে বিতরণের সময় জব্দ হওয়া কোরবানির গোশ্‌তের হদিশ চায় রাবি শিবির

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের বিবৃতি  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

২০২২ সালের ১২ জুলাই ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হলে ঈদ করা শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের কুরবানির গোশ্‌ত বিতরণ করেছিল শাখা ছাত্রশিবির। বিষয়টা জানাজানি হলে সব গোশ্‌ত জব্দ করে ক্যাফেটেরিয়ার ফ্রিজে রেখে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু সে গোশ্‌তের হদিশ মেলেনি আজও। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্‌ঘাটন এবং জব্দ করা গোশ্‌তের বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২৭ মে) সংগঠনটির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল ও সেক্রেটারি মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০২২ সালের কুরবানির ঈদের ছুটিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খোলা রাখা হলেও হলের ক্যান্টিন ও ডাইনিং বন্ধ ছিল। সে সময় প্রায় ২২৬ জন শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করলেও তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে ছাত্রশিবির অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরবানির গোশ্‌ত উপহার হিসেবে পৌঁছে দেয়, যা ছিল ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার একটি আন্তরিক প্রয়াস।

তারা আরও বলেন, তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে প্রভোস্ট কাউন্সিলের জরুরি সভা ডেকে গোশ্‌ত জব্দের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যারা গোশ্‌ত পৌঁছে দিয়েছিল, তাদের শনাক্ত করে আইনিভাবে হয়রানি করা হয়।

বিবৃতিতে শিবির আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নেওয়া ছাত্রশিবিরের উদ্যোগকে বিতর্কিত করে তৎকালীন 'আওয়ামী ফ্যাসিবাদী প্রশাসন' ছাত্রশিবিরের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জব্দ করা গোশ্‌ত পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হলেও, সেই গোশ্‌তের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল, সে বিষয়ে আজও কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তাই বর্তমান প্রশাসনের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদ্‌ঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের ভূমিকা ও জব্দকৃত গোশ্‌তের বিষয়ে একটি তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের জোর দাবি জানান তারা।