২৪ মে ২০২৬, ১৭:০০

বান্ধবীকে মেসে নিয়ে স্থানীয়দের মারধরের শিকার চবি ছাত্রদল নেতা

চবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান  © টিডিসি সম্পাদিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে নিয়ে ক্যাম্পাস সংলগ্ন জোবরা এলাকার একটি বাসায় ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান। গতবছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, নিজের এমন অপকর্ম আড়াল করতে এ ঘটনায় অন্য দুই শিক্ষার্থীর নাম জড়ানোর চেষ্টা করেছেন ছাত্রদলের এই নেতা। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

গতকাল শনিবার (২৩ মে) গভীর রাতে জোবরা এলাকার চৌধুরী পুকুর ২নং রোড কে. জে. এম টাওয়ারের পাশের ভবন থেকে স্থানীয়দের হাতে আটক হন অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান। পরে তাকে উপস্থিত স্থানীয়রা মারধর করেন। এসময় তার সঙ্গে এক নারী সহপাঠী ছিলেন। যিনিও চবির শিক্ষার্থী। বাসাটিতে ছাত্রদলের ওই নেতা থাকতেন।

এ ঘটনার আগে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) চাকসুর উদ্যোগে পর্দাশীল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ক্যান্টিনে ‘ছাত্রী কর্নার’ চালু করা হলে তা নিয়ে ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করে শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে পড়েন ছাত্রদলের এই নেতা।

জানা যায়, ঘটনার পর ‘মিডিয়া অফ জোবরা-ফতেহপুর’ নামের একটি ফেসবুক পেজে শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে একটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটির শুরুতে আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমানের নাম ‘সাকিব রহমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে সেটি পরিবর্তন করে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজিফা তাসনিম প্রিয়ন্তীর নাম যুক্ত করা হয়। কিন্তু দোষ চাপানো এ দুই শিক্ষার্থী ঘটনার আগেই ঈদের ছুটিতে নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

নাজিফা তাসনিম প্রিয়ন্তী আগেই ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন। এছাড়া মিডিয়া অফ জোবরা- ফতেহপুর পেজের বিষয়টি নজরে এলে আব্দুল্লাহ আল মামুন তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে আজ সকালে তিনি সিরাজগঞ্জের নিজ বাড়ির সামনে থেকে লাইভে এসে বলেন, গত ২২ তারিখ আমি আমার কয়েকজন বন্ধুর সাথে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে এসেছি। আমি এখনো বাড়িতে। সম্পূর্ণ ভুয়া তথ্য দিয়ে আমাদের নাম জড়ানো হয়েছে এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। 

জানা গেছে, গত ৩ মে প্রিয়ন্তী শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ, মানহানিকর ও হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো এবং ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে প্রক্টর বরাবর বিচার দাবি করেন। এদিকে আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান ও মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন দুজনেই শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সক্রিয়। 

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সাকিফ রহমানকে একাধিকবার ফোন করলে তার নাম্বার ব্যস্ত পাওয়া যায়। তবে এর আগে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ও (মেয়ে) সকাল ৬টার বাসের টিকিট কেটেছিল। আমরা কয়েকজন মিলে রাতে ঘুরাঘুরি ও নাইট আউট করার পরিকল্পনা করেছিলাম। খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় প্রথমে হাটহাজারীতে খেতে যাই। পরে জোবরা এলাকার একটি দোকানের সামনে মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সে ২ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার কথা বলে।

তিনি আরও বলেন, আমার বাসার সামনে আসার পর তাকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিলাম। কিন্তু সেখানে কয়েকজন ছেলে অবস্থান করছিল, তাই জায়গাটি নিরাপদ মনে হয়নি। পরে তাকে বাসার ভেতরে বসতে বলি এবং জানাই যে আমি গোসল করে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যাব। আমি গোসলে ঢোকার কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় কয়েকজন দরজায় নক করতে শুরু করে। দরজা খুললে তারা জানতে চায় বাসার ভেতরে কোনো মেয়ে আছে কি না। আমি তাদের পুরো বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করি। গোসল থেকে বের হওয়ায় তখন আমার শরীর ভেজা ছিল এবং গায়ে কাপড় ছিল না। একপর্যায়ে তারা আমাদের মানিব্যাগ ও ল্যাপটপ নিয়ে যায়। 

জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করেছি। তদন্তের মাধ্যমে যদি সে দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেন্দ্র মিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যায়কারী যে-ই হোক ছাড় দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে চবির সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন বলেন, এরকম একটা ঘটনার খবর পেয়ে আমরা গিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিয়ে আসি। ঈদের ছুটি থাকায় পরবর্তীতে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটি বিশ্ববিদ্যালয় নেবে।