চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ঢাকা-বেইজিং ফেলোশিপ’ চালুর প্রস্তাব দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
চায়নার সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ঢাকা-বেইজিং ফেলোশিপ’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (ডাকসু) সহ সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) নিজের ভেরীফাইড ফেসবুকে এ ঘোষণা দেন সদ্য বিয়ের পিঁড়িতে বসা ডাকসু ভিপি।
১৯১১ সালে রাজধানী বেইজিংয়ে যাত্রা শুরু করে সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি। চীনের অন্যতম সেরা এই বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কারণে বিশ্বে পরিচিত। আর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব দেন সাদিক কায়েম।
ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘ চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘকালের। সেই প্রেক্ষাপট স্মরণ করে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিপাক্ষিক সংলাপে আমি ‘Dhaka–Beijing Youth Fellowship’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছি । চীনের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ সিংহুয়া ইউনিভার্সিটিতে আজ ডাকসু, সিংহুয়া প্রশাসন ও ছাত্র সংসদ এবং চীন সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে এক দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় ইয়ুথ পার্টিসিপেশন ও ক্যাম্পাস গভর্ন্যান্স, ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ইয়ুথ মিশন অ্যান্ড অপরচুনিটিস-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।’
তিনি জানান, ‘দীর্ঘ এই আলোচনায় আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, প্রযুক্তিগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক আদান-প্রদান, পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি এবং যুব নেতৃত্বের বিকাশের ওপর জোর দিয়েছি। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে কেবল সরকার-টু-সরকার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থী, গবেষক, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা ও তরুণ নেতৃত্বের পরিসরে বিস্তৃত করতে আমরা চীনের শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছি। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, বৈশ্বিক বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছি।’
পাশাপাশি চীনা বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র সংসদকে বাংলাদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি লিখেন, ‘সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট মিয়াও শুও ডাকসুর মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘গ্লোবাল ইয়ুথ ডায়ালগ’-এ অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। আমরাও সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের আসন্ন ‘২য় আন্তর্জাতিক জুলাই কনফারেন্সে’ অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে ডাকসু ভিপি জানান,‘উভয় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টিতে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি। আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে, ইনশাআল্লাহ।’
উল্লেখ্য চায়না এ্যাম্বাসী বাংলাদেশের আমন্ত্রণে গত ১৭ মে চীনে গেছেন ডাকসুর ১৫ নেতা। এ সফরে ডাকসু প্রতিনিধিদল চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রসংসদ, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। এছাড়া তারা দেশটির ঐতিহ্যবাহী, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখবেন।