শিক্ষাখাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দের দাবি ছাত্র ইউনিয়নের
শিক্ষাখাতে জিডিপির ন্যূনতম ৬ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিতসহ তিন দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। শিক্ষাখাতে সরকার প্রতিশ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে তা পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৮ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে বহির্বিশ্বের আলোকে জোনাল পদ্ধতিতে বিদ্যালয়ে ভর্তির দাবি জানান।
শনিবার (১৬ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবির কথা তুলে ধরেন তারা। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ'র সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি সালমান রাহাত, স্কুলছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসান সুজন ও সদস্য প্রশান্ত কৈরী।
সভাপতির বক্তব্যে মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, তথাকথিত আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ড. ইউনূস শিক্ষাখাতে বিগত সময়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষাখাতে বরাদ্দের দিক দিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। সবার নিচে অবস্থান পাকিস্তানের।
সরকার ইউনেস্কোর সম্মেলনে গিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা আমলে নিয়ে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। যে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী স্বৈরাচার হাসিনাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন তাদের পরামর্শে প্রাথমিকে শরীর চর্চা ও সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছিলো। আমরা তা পুনর্বহালের দাবি জানাই। বহুধা বিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থা যা বৈষম্য সৃষ্টি করছে তা অবিলম্বে বাতিল করে একই ধারার, বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হবে। সরকার দাবি বাস্তবায়নে টালবাহানা করলে আমরা রাজপথে থেকেই দাবি আদায় করবো।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল শামসুননাহার হল ঘুরে ফের রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।
তিন দাবিগুলো হলো: শিক্ষাখাতে জিডিপির ন্যূনতম ৬ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে, ২. প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং শারীরিক চর্চা শিক্ষক ও সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, ৩. একই ধারার বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হবে।