ঢাবিতে শনিবারের বাস ট্রিপের উদ্বোধন করল ডাকসু
সরকারী বন্ধের দিন হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ডাকসুর উদ্যোগে প্রথম বারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসরুট গুলোতে শনিবারের ট্রিপ চালু হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসাশনিক ভবনের দক্ষিণ গেটের সামনে ফিতা কেটে বাস ট্রিপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন হয় এবং আগামী শনিবার থেকে নিয়মিত চলাচল করবে বলে এসময় জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, পরিবহন ম্যানাজার কামরুল ইসলাম, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, বিভিন্ন বাস রুটের নেতৃত্ববৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।
বসন্ত বাস রুটের সভাপতি খাদিজা পারভীন মাসকুরা বলেন, ‘শনিবারের বাসটা চালু করা দীর্ঘদিনের একটা যৌক্তিক দাবি ছিল। সপ্তাহের কোনো ক্লাস মিস হয়ে গেলে সেটা মেকআপ ক্লাস হিসেবে শনিবার দিন দিয়ে দিত। দেখা যায় যে শনিবার দিন হওয়া সত্ত্বেও আমার প্রায় সময় ক্লাসে দেরি হয়ে যেত বা পরীক্ষা টাইম ধরাটা খুব রিস্কি ছিল। শনিবারের বাসটা আমাদের সময়ের দাবি ছিল। আমাদের দাবি পূরণ করার জন্য আমি ডাকসু সবাইকে, বিশেষ করে আসিফ আব্দুল্লাহ ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।’
কিঞ্চিৎ বাস রুটের সভাপতি ফাহিম বলেন, ‘আমরা যারা অনাবাসিক শিক্ষার্থী, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে আসছিলাম । আমি চার বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি, আমি অনেকগুলো পরীক্ষা শনিবার দিয়েছি। আমার পড়াশোনা প্রায় শেষের দিকে, এই চার বছরে যদি শনিবারের বাস থাকতো তাহলে আমার অনেকগুলো ভাড়া বেঁচে যেত, অনেক কষ্ট কমে যেত। কারণ শনিবার বাসা থেকে লোকাল বাসে আসতে হতো , যারা মেয়ে তাদের অনেক অসুবিধা হতো।আমদের যে পরীক্ষা দিতে হয়, তারপর ক্যাম্পাসে অনেক অনুষ্ঠান থাকে, অনুষ্ঠানগুলো অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা মিস করে। আসিফ ভাইকে অনেক ধন্যবাদ সে আমাদের রাতের বাসটা চালু করে দিয়েছে এবং শনিবারের বাসটাও অবশেষে চালু হচ্ছে।’
ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা জানেন শিক্ষার্থীদের একটি দাবি ছিল শনিবারের বাস ট্রিপ চালু করা। আজ আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত সেই বাস ট্রিপের উদ্বোধন। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার ক্লাস হতো, সেই সময় শনিবারের ট্রিপ ছিল। কিন্তু যখন থেকেই সরকারিভাবে শনিবার বন্ধের দিন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলো, এরপর থেকে শনিবারের বাস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল। শিক্ষার্থীদের দাবি ও পরিবহন সম্পাদক হিসেবে আমার ইশতেহারের অংশ হিসেবে আমরা বলেছিলাম শনিবারের বাসের ট্রিপ চালু করবো। তারই অংশ হিসেবে আমরা ইউজিসি (UGC) থেকে পরিবহন সেক্টরে একটি ফান্ড বরাদ্দ পাই ‘
তিনি আরও বলেন, ‘শনিবারের বাস ট্রিপ চালুর জন্য সকল অফিশিয়াল প্রসিডিউরগুলো সম্পন্ন করার জন্য আগাই। কিন্তু সিস্টেম্যাটিক প্রসিডিউরের কাজ হচ্ছিল না, এরপরে আমাদের ট্রেজারার স্যার এটাকে আবার বলেন যে দুই বছরের জন্য বাজেট বরাদ্দ হয়েছে, এরপরে কী হবে? যদি বাজেট বরাদ্দ লম্বা সময়ের জন্য না হয়, তাহলে এটা চালু হবে না। এই বাজেটগুলো পড়েই থাকবে। আমরা সিন্ডিকেট মিটিংয়ে স্যারদের সাথে কথা বলি এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের যে দাবি সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেনে নিতে বাধ্য হন এবং শনিবারের ট্রিপ আগামী পরশুদিন থেকে চালু হতে যাচ্ছে। ’
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে আমাদের সকল ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে আমরা চেষ্টা করছি। ইশতেহারের বাইরেও কাজ করা যায় কিনা সে চেষ্টাও আমরা সবসময় করছি। ইশতেহারের অংশ ছিল শনিবারের বাস ট্রিপ। পরিবহন সম্পাদক এবং ডাকসুর ভিপি, এজিএস সহ আমাদের সামগ্রিক প্রচেষ্টায় আমরা বারবার চেষ্টা করে বাইরে থেকে ফান্ড ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছিলাম। সর্বশেষ ইউজিসি থেকে আমরা ফান্ড নিয়ে আসছি। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছিলাম যে ফান্ড নিয়ে আসার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের পক্ষ থেকে নানা গড়িমসি। একটুর জন্য আমরা সেটি বাস্তবায়ন করতে পারছিলাম না। সবশেষে আমরা সিন্ডিকেটে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি এবং প্রশাসন এটা মানতে বাধ্য হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে আশা করছি এই ট্রিপটি পারফেক্টলি চলবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন ম্যানেজার কামরুল ইসলাম বলেন, ডাকসু নেতৃবৃন্দের নিরলস প্রচেষ্টায় আজকে এই বাসটি চালু হতে যাচ্ছে। এই কৃতিত্বটা ডাকসু নেতৃবৃন্দের। বিশেষ করে পরিবহন সম্পাদকের। আমি প্রফেশনাল দায়িত্ব পালন করছি ঠিকই, নিরলস কাজ করে যাচ্ছে কিন্তু আপনাদের এই ছাত্র প্রতিনিধিরা। আমাদের জায়গা থেকে যতটুকু যৌক্তিক সহযোগিতা দেওয়া যায় আমরা দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার দিন আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের একাডেমিক কাজ, পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের কিছু অংশের ক্লাস-পরীক্ষা থাকে । যে কারণে এই দাবিটির যৌক্তিকতা ছিল, ন্যায্যতা ছিল।’