জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হলে যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আজ বুধবার (১৩ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা একজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। এ ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের রাস্তা ধরে যাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি তার পিছু নেন। হঠাৎ করে দেখা যায় ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর গলায় দড়ির মতো কিছু একটা পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেফরুল হাসান চৌধুরী বলেন, গতকাল রাতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি শিক্ষার্থীর গলায় জালের মতো একটি বস্তু পেঁচিয়ে তাকে ঝোপঝাড়ে টেনে নিয়ে যান। ফুটেজের ভিত্তিতে তারা প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বাইকে করে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একটা মেয়ের চিৎকার শুনতে পাই। আমরা সেখানে গেলে পাশের জঙ্গল থেকে একটা মেয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় উঠে আসে। তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল না এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মাটি, ধুলা লেগে ছিল। আমি তৎক্ষণাৎ জিজ্ঞেস করি, ‘আপু কী সমস্যা?’ তখন ওই শিক্ষার্থী জানান কেউ একজন তাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করছে। আমরা তৎক্ষণাৎ উপস্থিত সবাই জঙ্গলে ঢুকে অভিযুক্ত ধর্ষণচেষ্টাকারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি, কিন্তু অন্ধকারে তাঁকে আর পাওয়া যায়নি। এরপরে আমরা নিরাপত্তা শাখায় ফোন দিই এবং তারা আসার পরে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়।’
ঘটনাটি ক্যাম্পাসে জানাজানি হওয়ার পরে জাকসুর নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা শাখার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।