১২ মে ২০২৬, ১৮:৫২

শিক্ষক নিয়োগে রাজনীতিকে দায়ী প্রধানমন্ত্রীর, ঢাবি অধ্যাপক বললেন— আরও মূলে ‘ভিসি নিয়োগের রাজনীতি’

ঢাবি অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন  © টিডিসি সম্পাদিত

আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ার পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এটির মূল আরও গভীরে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। তিনি বলেছেন, সব বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের প্রধান হিসাবে ভিসি/প্রোভিসি থাকবে আর ভিসি/প্রোভিসি নিয়োগে রাজনীতি থাকবে ততদিন শিক্ষক নিয়োগে রাজনীতি থামানো সম্ভব না।  

মঙ্গলবার (১২ মে) ‘ঢাবি র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়ার কারণ শিক্ষক নিয়োগে রাজনীতি: প্রধানমন্ত্রী’ ‍শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য ঢাবি অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনের ওই ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

একদম স্পট অন। তবে এর মূল আরও গভীরে। শিক্ষক নিয়োগের রাজনীতির মূলে হলো ভিসি নিয়োগের রাজনীতি। যতদিন সব বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের প্রধান হিসাবে ভিসি/প্রোভিসি থাকবে আর ভিসি/প্রোভিসি নিয়োগে রাজনীতি থাকবে ততদিন শিক্ষক নিয়োগে রাজনীতি থামানো সম্ভব না। শিক্ষক নিয়োগে রাজনীতি বন্ধ করতে চাইলে প্রথমে ভিসি/প্রোভিসিদের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড থেকে আলাদা করতে হবে। নতুবা শিক্ষক নিয়োগ কয়েকটি স্তরে করে সর্বশেষ স্তরের ইন্টারভিউয়ে ভিসি/প্রোভিসি থাকতে পারে। 

তার চেয়ে বড় কথা হলো যতদিন না disruptive গবেষণা করতে পারে এমন শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারব ততদিন পর্যন্ত শিক্ষার মান, গবেষণার মান আর র‍্যাংকিং কোনটির মানেরই উন্নতি হবে না। একজন ভালো মানের গবেষণায় অযোগ্য শিক্ষককে যতই প্রজেক্ট দেওয়া হয়, টাকা দেওয়া হয় ল্যাব দেওয়া হয়, কোনো লাভ হবে না। অথচ এটিই আমরা করে আসছি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বিভিন্ন প্রজেক্ট যেমন Heqep বা Heat তাতে যত টাকাই ঢালি না কেন, এতে কেবল অর্থের অপচয় শুধু হবে না সাথে শিক্ষকদের ধান্দাবাজ বানানোর পথও তৈরি করা হবে। উন্নত মানের শিক্ষক নিয়োগের কোনো বিকল্প নাই। 

তবে প্রধানমন্ত্রী একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘অ্যালামনাইদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা-উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে’! একদমই তাই। বিশেষ করে অ্যালামনাইদের মধ্যে যারা শিল্প কলকারখানার মালিক তাদের জন্য শুধু গবেষণা-উন্নয়নে না একই সাথে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলের জীবন মান উন্নয়নেও সম্পৃক্ত হতে হবে। এর কারণ তারা যে তাদের কলকারখানা ও অফিসের জন্য লোকবল পান সেটাতো বিশ্ববিদ্যালয়ই তৈরি করে। সুতরাং অ্যালামনাইরা যদি ভালো মানের লোকবল পেতে চায়, ভালো মানের ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ চায় তাহলে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির বিকল্প নাই।

এর আগে, আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়ছে। এর অন্যতম কারণ শিক্ষক নিয়োগ যেভাবে হওয়া উচিত ছিল, অতীতে সেভাবে হয়নি। আমি শুনেছি ও পত্রপত্রিকায় পড়েছি, নিয়োগে রাজনীতি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।’ তিনি যোগ করেন, শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।