১০ মে ২০২৬, ০৭:৪১

কুয়েত মৈত্রী হলে অসুস্থ ছাত্রীদের দেখতে গেলেন ঢাবি উপাচার্য

হল পরিদর্শন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম  © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলে গত তিন দিনে শতাধিক শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ডায়রিয়া ও বমির উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আক্রান্ত হওয়ায় সাধারণ ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হল প্রাঙ্গণে একটি জরুরি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) রাতে হল পরিদর্শন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

উপাচার্য অসুস্থ ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন। একই সঙ্গে ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি হল প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশ দেন। উপাচার্যের সঙ্গে এ সময় ঢাকা  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস  চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ এবং হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাহবুবা  সুলতানা উপস্থিত ছিলেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহীদ মোহাম্মদ ড. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের’ প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা তানভীর আলী বলেন, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী ডায়রিয়া ও বমির উপসর্গ নিয়ে মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়েছেন। রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় হলে মেডিকেল ক্যাম্প বসানো হয়েছে। চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পানিবাহিত রোগ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার পর থেকেই পানিতে ব্লিচিং পাউডারের তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মুখ ধোয়া, কুলি করা কিংবা গোসলের সময় ওই গন্ধে অনেকের বমি ভাব হচ্ছে। হলের শিক্ষার্থী জুয়েনা আলম বলেন, ব্লিচিং জীবাণুমুক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হলেও তা ঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আমাদের ধারণা, ট্যাংক ও ওয়াশরুম পরিষ্কারের পর ব্লিচিং ঠিকমতো ধুয়ে ফেলা হয়নি।

হলের পানি ও খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ মাহবুবা সুলতানা বলেন, প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পানির চৌবাচ্চাগুলো ইতোমধ্যে পেশাদার লোক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।