০৬ মে ২০২৬, ২১:৩২

দায়িত্ব ছাড়লেন চবির এ এফ রহমান হল প্রভোস্ট

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন  © সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এ এফ রহমান হলের প্রভোস্টের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন। অসুস্থতার কারণ দেখালেও রাজনৈতিক চাপের মুখেই মূলত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। 

গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বরাবর অব্যাহতিপত্র দিয়েছেন প্রভোস্ট। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। 

অব্যাহতি পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে পারিবারিক ব্যস্ততা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এ দায়িত্ব পালন করতে অপারগ। তাই তিনি অব্যাহতি চান। অধ্যাপক তাসলিম উদ্দিন জামায়াতপন্থি হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। 

তবে, রাজনৈতিকসহ নানামুখী চাপের কারণে সরে দাঁড়াচ্ছেন জানিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে প্রভোস্ট বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে আমি নানা ধরনের চাপ অনুভব করছি। তবে তিনি কোন রাজনৈতিক দল থেকে চাপ অনুভব করছেন তা বলেননি।

অধ্যাপক ড. তাসলিম উদ্দিন বলেন, আমার হলের কিছু শিক্ষার্থী গিয়ে ভিসি স্যারকে বলেছে, তিনি দায়িত্বে আসার পর নাকি আমি হলে তেমন যাই না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমি বরং হলে যাওয়াটা আগের চেয়ে বাড়িয়েছি। তবুও যখন শুনি আমার ছাত্ররা বলছে আমি হলে যাই না, তখন সত্যিই খারাপ লাগে। আমি নিয়মিতই হলে যাই, ফ্লোরে হাঁটি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলি। আমার বিশ্বাস, হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এমনটা বলবে না। তবে কারা আমার বিরুদ্ধে ভিসির কাছে অভিযোগ করেছে, সেটা আমি নির্দিষ্ট করে বলতে চাই না।

তিনি বলেন, আসলে এখানে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি দুটোরই প্রভাব আছে বলে আমি করি। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতির প্রভাবটা স্পষ্টভাবে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমাকে সরাসরি কোনো কিছু বলা হয়নি, কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে আমি নানা ধরনের চাপ অনুভব করছি। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসন থেকে খুব বেশি সমর্থন পাব বলে মনে করি না। আমাদের দেশে তো বেশিরভাগ জায়গাতেই রাজনীতির প্রভাব থাকে। আর সরকারে যারা থাকে, তাদের সঙ্গে সরাসরি লড়াই করে কিছু করাটা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, হলের বিভিন্ন নির্মাণকাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও আমি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিলাম। অনেক সময় আমি যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি সেটা আমার কাছে সঠিক মনে হচ্ছে, কিন্তু তার বিপরীতে অন্য সিদ্ধান্ত এসে যাচ্ছে। কোনো কাজ করতে গেলে সেখানে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। এভাবে আসলে কাজ করাটা কঠিন। তাছাড়া আমার বিভাগেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আর অব্যহতিপত্রে আমি অসুস্থতার বিষয়টা উল্লেখ করেছি, আমি আসলে কিছুটা অসুস্থও বটে। আর যখন নানামুখী চাপে থাকবো তখন আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যাবো। তাই সবকিছু বিবেচনা করে আমি নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছি।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল-ফোরকানকে একাধিকবার ফোন করলে সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর চব্বিশের ২৩ সেপ্টেম্বর দুই বছর মেয়াদে হলটির প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পান তাসলিম উদ্দিন। সেই হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।