০৩ মে ২০২৬, ১৬:২৯

আত্মহত্যার আগের রাতে সুদীপের কক্ষে কী হয়েছিল মিমোর সঙ্গে?

সিসিটিভি ফুটেজের দৃশ্য  © ভিডিও থেকে নেওয়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। এতে দেখা গেছে, ঘটনার আগের দিন বিভাগে শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীর কক্ষ থেকে বিধ্বস্ত অবস্থায় বের হয়ে আসছেন মিমো। সিসিটিভি ফুটেজে বারবার কাউকে কল দেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা গেছে তাকে।

মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২৬ এপ্রিল সকালে নিজ কক্ষ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়, যেখানে ব্যক্তিগত বিষয় ও আর্থিক লেনদেনের উল্লেখ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন।

জানা গেছে, আত্মহননের আগে সে রাতেই সুদীপের ব্যক্তিগত কক্ষে গিয়েছিলেন মিমো। ঢাবির কলাভবনের ৩০৪০ নং কক্ষটি সুদীপের। ওই দিন রাত ৯টা পর্যন্ত সুদীপের নাট্যদল ‘থিয়েট্রেক্স’-এর অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে দলের সভা কার্যক্রম চলছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে বিধ্বস্ত অবস্থায় কক্ষটি থেকে বেরিয়ে আসেন মিমো। তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে নিজের মাথায় হাত দেন এবং দেয়াল ধরে দাঁড়ানোর মত অস্বাভাবিক আচরণ করেন।

ফুটেজটিতে তিনি কাউকে কল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। মোবাইল ফোন কানে ধরে রাখলেও কথা বলছিলেন কিনা— সেটি স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, অপর এক সিসি ফুটেজে মিমোকে বেসিনের সামনে গিয়ে মুখে পানি দিতে দেখা গেছে। কিছুক্ষণ পরে তিনি মোবাইল পকেটে রাখতে রাখতে কক্ষটিতে পুনরায় প্রবেশ করেন।

এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, সেদিন মিমো কার সঙ্গে কথা বলছিলেন, কী ছিল সেই কথা? আর কক্ষের ভেতর কী হয়েছিল যে মিমোকে এভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় বের হয়ে আসতে দেখা গেছে?

এদিকে মিমোর আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আজ রবিবার (৩ মে) তিনদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেন আদালতে আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। পরে আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ৩ মে ধার্য করেছিলেন।