০২ মে ২০২৬, ২০:২৭

শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষ: মামলা প্রত্যাহার চায় চবির নিরাপত্তা দপ্তর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আব্দুর রহিম। বিপরীতে আব্দুর রহিমকে রবিবারের (৩ মে) মধ্যে নিরাপত্তা প্রধানের দায়িত্ব হতে প্রত্যাহারসহ দুই দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসুর) নেতরা।

শনিবার (২ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল ফোরকানের কাছে এ দাবি পেশ করেন তারা। এ ছাড়া এ মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

জানা যায়, গত বছরের ৩০ আগস্ট রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন একটি ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর বাগবিতণ্ডার জেরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় সাড়ে ৪০০ শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে এ ঘটনায় ৯৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত ১ হাজার জনকে আসামি করা হয়। গত ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান আব্দুর রহিম। তবে আবেদনপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

এ ঘটনায় চাকসু নেতৃবৃন্দের দুই দফা দাবি হলো আব্দুর রহিমকে নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধানের দায়িত্ব থেকে আগামীকালের মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে এবং গত ৩০ ও ৩১ আগস্টের মামলাসহ সকল মামলা স্পষ্ট করতে হবে। 

এ বিষয়ে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, গত বছরের ৩০ এবং ৩১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান বাদী হয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করে। কিন্তু গত ১৫ এপ্রিল এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অংশ হিসেবে কাউকে না জানিয়ে তিনি এ আবেদন করতে পারেন না। ওনার এই ধৃষ্টতামূলক কাজের জন্য শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তবে, এটিকে রাজনৈতিক মামলা ও নিজের নিরাপত্তা বিবেচনা করে মামলা প্রত্যাহার করেছে জানিয়ে নিরাপত্তা প্রধান আব্দুর রহিম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমাকে বাদী করে মামলা করা হয়েছে। মামলার এজাহারে দোষীদের বাহিরেও সাধারণ মানুষ, কর্মচারীদের নাম আছে। তাছাড়া এটা এখন রাজনৈতিক মামলা হয়ে গেছে। তাই ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল ফোরকান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করার মামলা নিরাপত্তা প্রধান প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তবে, আমরা বলেছি মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই।’