১২০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ২য় জাতীয় মানবাধিকার অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘২য় জাতীয় মানবাধিকার অলিম্পিয়াড–২০২৬’। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির আয়োজনে এ প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ছিল স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকার রক্ষার মানসিকতা গড়ে তোলা।
শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় একযোগে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্রে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়।
পরীক্ষা শেষে প্রতিটি কেন্দ্র থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা মানবাধিকার বিষয়ক সচেতনতার বার্তা তুলে ধরে।
আয়োজকরা জানান, ২০১৪ সাল থেকে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি। সংগঠনটি মূলত সিভিল ও পলিটিক্যাল রাইটস বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং প্রতিবছর দেশব্যাপী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ব্যাচ গঠন করে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৩০ জন করে শিক্ষার্থী নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যেখানে মানবাধিকার সম্পর্কিত নানা বিষয়ে তাদের দক্ষ করে তোলা হয়।
গত বছর থেকে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি নতুন একটি উদ্যোগ হিসেবে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে মানবাধিকার অলিম্পিয়াড চালু করে। আয়োজকদের মতে, ছোট বয়স থেকেই মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে এই শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গিয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও জাতীয় ইস্যুতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে। এতে তারা যেমন ব্যক্তিগতভাবে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হবে, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রও উপকৃত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক কমিশনার মো. শরীফুল ইসলাম।
ইজাজুল ইসলাম বলেন, “মানবাধিকার বিষয়ে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। আমরা প্রতি বছর নতুন ব্যাচ তৈরি করে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবাধিকার বিষয়ে দক্ষ করে তুলছি। সেই ধারাবাহিকতায় স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করতে এই অলিম্পিয়াড চালু করা হয়েছে।”
অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সচেতন ও জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি বিকাশ এবং ন্যায়, সমতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
আয়োজকরা জানান, যদিও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি সারা দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে আপাতত ঢাক, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই অলিম্পিয়াড আরও বিস্তৃত পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।