০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০২

জুনিয়রকে মাথা ফাটানোর অভিযোগ, সদস্যপদ হারালেন ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী

সদস্যপদ হারালেন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মিশকাতুল মাশিয়াত  © টিডিসি

জুনিয়রের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা জেরে মাথা ফাটানো ও বাইক জব্দের অভিযোগে সাময়িকভাবে সদস্য পদ হারিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী মিশকাতুল মাশিয়াত। তিনি ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারিবিলিটি স্টাডিজের শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ১৫ দিনের জন্য মিশকাতুলের সদস্যপদ স্থগিতের খবর নিশ্চিত করে ঢাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়ন। বিবৃতিতে ছাত্র ইউনিয়ন জানিয়েছে, ‘তদন্ত কমিটির সুপারিশ এবং সংগঠনের আদর্শিক অবস্থান বিবেচনা করে, মিশকাতুল মাশিয়াত এর সদস্যপদ আগামী ১৫ (পনেরো) দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হলো।’ 

এর আগে গত ৪টা ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার টিমের একটি ব্যানার প্রিন্টিং এবং বিড়ালের ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনকে কেন্দ্র করে জুনিয়র এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে তার মাথা ফাটানোর অভিযোগ উঠেছিল ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী মিশকাতুল মাশিয়াতের বিরুদ্ধে।

সেসময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আতিকা ইবনাত সিনহা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফেসবুকের এক পোস্টে জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার টিমের ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন চলাকালে ব্যানার প্রিন্টিং ও একটি ক্যাম্পাস বিড়ালের ভ্যাকসিনেশনকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী মিশকাত তানিশার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে টিএসসি এলাকা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় চলন্ত অবস্থায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি তার বাসার নিচ থেকে তার ব্যবহার্য বাইকটিও জব্দ করা হয় বলে জানান তিনি। 

এই ঘটনার পর শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ছাত্র ইউনিয়নের কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেন আতিকা। 

সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আজ মঙ্গলবার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে করণীয় নির্ধারণ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, মোটর সাইকেলটি আত্মসাৎ বা ছিনতাইয়ের কোনো উদ্দেশ্য অভিযুক্তদের ছিল না। দীর্ঘ সময় অভিযুক্তদের হেফাজতে থাকলেও বাইকের কোনো ক্ষতি করা হয়নি এবং অভিযোগকারী ক্ষমা চাওয়ার পর বাইকটি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়নি। তবে, কাউকে ক্ষমা চাওয়ানোর উদ্দেশ্যে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিজ হেফাজতে নেওয়াকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ সংগঠন নীতিবহির্ভূত ও অনৈতিক মনে করে।’

মিশকাতকে দোষী সাব্যস্ত করে সেখানে আরো বলা হয়,‘বাক-বিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষই আগ্রাসী আচরণ করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয়েছে যে, মিশকাতুল মাশিয়াত অভিযোগকারীকে চড় মেরেছেন, যা সংগঠনের নৈতিক আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি।’