এক দিনে তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের পৃথক তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে (ব্রেন স্ট্রোক) মারা গেছেন।
রাজধানীর হাজারীবাগের মনেস্বর রোডের ভাড়া বাসায় বিষাক্ত দ্রব্য পানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সীমান্ত (২৫) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার এসআই জাহিদ হোসেন জানান, 'প্রাথমিকভাবে চিকিৎসক জানিয়েছেন, নিহত শিক্ষার্থী ছারপোকা মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।' তিনি আরও জানান, করোনায় মায়ের মৃত্যু ও বোনের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে হতাশাগ্রস্ত থাকার কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। সীমান্তের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে। তাঁর বাবা সদরুল আমিন।
মৃত শিক্ষার্থীর চাচা রুহুল আমিন বলেন, 'আমার ভাতিজা হাজারীবাগের বাসায় সাবলেট ভাড়া থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করত। তার রুমমেট জানায় গতরাত ৯টার পরে সীমান্ত তার রুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছিল। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোন সাড়া–শব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাড়ির মালিক এসে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান সীমান্ত আর বেঁচে নেই।'
রুহুল আমিন আরও বলেন, 'অচেতন অবস্থায় সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ বেরোচ্ছিল। এতে আমরা ধারণা করেছি ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছে। তবে কেন সে এই কাজটি করেছে তা আমরা কিছুই জানি না।' ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, রাতে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের ৪৪তম আবর্তনের সাবেক শিক্ষার্থী সাবিত মাহমুদ শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে তুরাগ থানার ডিউটিরত অফিসার এসআই ইখলাস মিয়া বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত করা যাবে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে একই বিভাগের ৪৪তম আবর্তনের আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ কাজল মিয়া জানান, সাবিত কয়েকদিন ধরেই মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কিছু অস্বাভাবিক পোস্টও দিয়েছিলেন। গতকাল রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জানা যায়, তিনি নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার সঠিক কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ নাফিজ আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় গৌরনদীর নিজ বাড়িতে মারা গেছেন। তাঁর পরিবারের এক সদস্য নিশ্চিত করেছেন যে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে।
গত ১৬ মার্চ অসুস্থতার কারণে তাঁকে ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিছুটা সুস্থ বোধ করায় চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১ এপ্রিল পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। নাফিজ গৌরনদীর ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেনের বড় ছেলে। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে ক্যাম্পাস জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর সহপাঠী ও বন্ধুরা গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছেন।