২৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৯

আমি একটি দলের মত বিশ্বাস করি, কিন্তু ঢাবিতে সার্বজনীন উপাচার্য

অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম  © টিডিসি ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি একটা দলের মত বিশ্বাস করি, কিন্তু আমি চেয়ারে বসার পর আমি কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সেই জায়গা থেকে আমি বলব, সার্বজনীন উপাচার্য হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ‘ওভারঅল চিন্তা করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো সবার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা উদ্যোগ নেব যে একাডেমি এবং ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে একটা কলাবরেশন তৈরি করা।’

প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোন ধরনের কোন নথি বা নোট বা কোন ফাইল আসলে ৭২ ঘন্টার মধ্যে সমাধান করতেই হবে। এটা কোন টেবিলে পড়ে থাকলে দীর্ঘ সময়ের জন্য তাকে জবাব দিতে হবে এবং তার জবাবদিহির কারণে তার যা শাস্তি সে পাবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সবচেয়ে আদি ও সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে গবেষণা হবে এটাই স্বাভাবিক। এটি শুধু সার্টিফিকেট বিতরণ কেন্দ্র নয়, শিক্ষা ও গবেষণার সমন্বয়েই এই বিশ্ববিদ্যালয়অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাবি উপাচার্য 

শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগের মাপকাঠি হতে হবে একেবারে টোটালি মেধা ও যোগ্যতা। মেধাবী না হলে দলীয় যদি লেজরবিত হয় তারা জাতির বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনো ভালো কিছু দেয় না, বরং মানুষকে আরও ধ্বংস করে দেয়।’

শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘লেখাপড়ার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিগুলোকে গুরুত্ব দেব। মেধা এবং যোগ্যতা মূল্য দিলে বিশ্ববিদ্যালয় বাঁচবে, দেশ বাঁচবে।’

কনভোকেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভোকেশন নরমালি প্রতিবছরই হওয়ার কথা। কিন্তু বিগত সময়ে পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে তা নিয়মিত হয়নি। আমি দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র। আমার পরিকল্পনা আছে প্রতিবছর কনভোকেশন আয়োজন করার, যাতে শিক্ষার্থীরা কনভোকেশনের মাধ্যমে তাদের ডিগ্রি গ্রহণ করতে পারে। শিগগিরই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।’

গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সবচেয়ে আদি ও সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে গবেষণা হবে এটাই স্বাভাবিক। এটি শুধু সার্টিফিকেট বিতরণ কেন্দ্র নয়, শিক্ষা ও গবেষণার সমন্বয়েই এই বিশ্ববিদ্যালয়।’

আরও পড়ুন: ঢাবিতে ‘সেকেন্ড টাইম’ ভর্তির সুযোগ নিয়ে যা বললেন নতুন উপাচার্য

গবেষণার বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গবেষণার জন্য যে বাজেট দরকার তা অপ্রতুল এটা আমরা জানি। তবে গবেষণার প্রতি অনীহা আছে এটা আমি বলব না। বাজেটের অপ্রতুলতাই মূল সমস্যা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার বা ইউজিসি যে বাজেট দেয়, তা দিয়ে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় মেটানোর পর গবেষণার জন্য খুবই সামান্য অর্থ থাকে। এজন্য আমরা শিক্ষকদের বিভিন্ন উৎস থেকে গবেষণার ফান্ড সংগ্রহে উৎসাহিত করি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হবে একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে, কারণ আমাদের শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ ক্ষেত্র হলো ইন্ডাস্ট্রি।’