২৬ মার্চ ২০২৬, ১৪:২৭

আহনাফের কাছে মৃত্যু ছিল 'খুবই স্বাভাবিক' বিষয়, বাস ডুবে নিহত জাবি ছাত্রের স্ট্যাটাস ভাইরাল

জাবি শিক্ষার্থী আহনাফ  © সংগৃহীত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীরা রাইয়ান ও তার ভাগ্নের মরদেহ শনাক্ত করেন। এর আগে বুধবার রাইয়ানের মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তার বড় বোন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

মর্মান্তিক এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাইয়ানের পূর্বের একটি আবেগঘন পোস্ট ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি মৃত্যুকে অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

ভাইরাল হওয়া সেই ফেসবুক পোস্টে রাইয়ান লিখেছিলেন, ‘মৃত‍্যু আমার কাছে বরাবরই খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয় মনে হয়। পৃথিবীতে এসেছি, একদিন চলে যাবো। এই তো। তবে নিজের মৃত্যুর ব‍্যাপারে খুব সাধারণ চিন্তা থাকলেও অন‍্যের বা বিশেষ করে পরিবারের কারো ব‍্যাপারে এই চিন্তাধারা খাটে না। আমার খুব কাছের কেউ চলে গিয়েছেন এমন অভিজ্ঞতার মধ‍্য দিয়েও তেমন যাওয়া হয় নি। বাবা মারা যাবার ঠিক ১মাস পর এসে বুঝলাম যে হারিয়েছি আসলে অনেক কিছু।’

নিজের জীবন ও বেড়ে ওঠা নিয়ে তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘আমি খুবই হাই কোয়ালিটি একটা লাইফ পার করেছি ২৫ বছর ধরে। এমন না আমার পরিবার খুবই উচ্চবিত্ত। তবে সব রকম চাওয়া পাওয়া পূরণ হতে পারা থেকে শুরু করে পারিপার্শিক পরিবেশ আর চিন্তা ভাবনার উন্নতির পিছনে সবথেকে বেশি ভূমিকা রেখেছে আমার পরিবার। যেভাবে বড় হয়েছি,যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন‍্যান‍্য প্রতিষ্ঠানে যাবার সুযোগ হয়েছে সব কিছুতেই পরিপূর্ণ সাপোর্ট দিয়েছে আব্বু আম্মু। ছোট বেলা স্কুলে থাকতেও মফস্বল এলাকায় সন্ধ্যার পর বাসার বাইরে থাকা, বা বন্ধুবান্ধবী সংক্রান্ত কোনো রেস্ট্রিকশনও তেমন পাওয়া লাগে নি। আব্বু নিজে অনেক স্ট্রাগলিং ফ‍্যামিলি থেকে উঠে এসে সাকসেসফুল হয়েছে বলেই হয়তো এমন। তবে আমার কাছে নিজের জীবন খুবই গ্রাফের মতো ওঠানামা করেছে লাগে। স্কুল কলেজে প্রচুর হ‍্যাপেনিং লাইফ তো কোভিডের সময় একদম বাসায় কোনো কিচ্ছু না করে চুপচাপ কাটালাম, এরপর আবার ভার্সিটির শেষের দিকে এসে কত হ‍্যাপেনিং জীবন। অর্জন আর অভিজ্ঞতাও তাই কম না।’

জীবনের শেষদিকের মানসিক অবস্থা ও বৈপরীত্য তুলে ধরে রাইয়ান লিখেছিলেন, ‘তবে লাস্ট অনেকদিনই বলতে গেলে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছি, নিজের সাথেও প্রচুর ফাইট করা লাগে। একটা দীর্ঘ সময় মনে হতো ব‍্যাপার না, যা হয় হবে। পরিবার আছে,বন্ধুরা আছে পার করে ফেলবো সব। সেই কনফিডেন্স এও ঘাটতি পরে যাচ্ছে কিছুদিন ধরেই। আব্বু নেই, এরপরেও বাসা থেকে কোনো অভাব বোধ করাচ্ছে না। পরিচিত কাছের কত মানুষও দূরে চলে গেলো। মনে হয় সব বুঝি, আবার মনে হয় কিছুই বুঝি না। দুই রকমের বিপরীত অনুভূতি ও আবেগ সমান্তরাল ভাবে আমার মধ‍্যে বিরাজ করতে পারে। বৈপরীত্যের সমান্তরাল স্রোতে থেকে আমি তাই খুবই খুশি আমার এই জীবন নিয়ে আবার একই সাথে খুবই দুঃখী কারন অনেক কিছু হারিয়ে ফেলেছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা- রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা। আমার পিতামাতা এবং জগতের সকল পিতামাতার প্রতি রহমত বর্ষিত হোক।’