২৩ মার্চ ২০২৬, ১৬:৫০

এখন থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা

মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা  © টিডিসি সম্পাদিত

দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব কর্মক্ষেত্রে কর্মজীবী নারীরা মাতৃত্বকালীন ছুটি পেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বিবাহিত নারী শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নারী শিক্ষার্থীর মাতৃত্বকালীন সময়ে পরীক্ষার জন্য উপস্থিতির শর্ত শিথিল করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন বিশ্ববিদ্যালয়টির নারী শিক্ষার্থীরা।

গত জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির সভায় এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে সকল বিভাগের চেয়ারম্যান ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কাছে এই সিদ্ধান্তের অনুলিপিসহ পাঠানো হয়েছে। সেখানে এটি কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

গত ৫ জানুয়ারির ডিনস কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে এক আলোচ্যসূচিতে বলা হয়, নারী শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষাকল্পে তিনটি ছাড়নীতি ও একটি উদ্যোগ গ্রহণ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান কর্তৃক গঠিত কমিটির রিপোর্ট এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান ও বাধ্যতামূলক উপস্থিতির নিয়ম শিথিল করণের জন্য নারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে ডাকসু প্রতিনিধিদের একটি আবেদন পর্যালোচনা করে উপস্থাপনের জন্য গত ডিনস কমিটির সভায় ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিনকে অনুরোধ করা হয়। 

ডিনের মতামত, ‘‘সুপারিশসমূহ বাস্তব সম্মত এবং একমত পোষণ করি। তবে শিক্ষাকালীন সময়ে (এমফিল ও পিএইচডি ব্যতীত) মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান সম্ভব নয়।’’

পরে সিদ্ধান্ত হয়, নারী শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষাকল্পে তিনটি ছাড়নীতি ও একটি উদ্যোগ গ্রহণ বিষয়ে গঠিত কমিটির রিপোর্ট অনুমোদন করা হল। শিক্ষার্থীর মাতৃত্বকালীন সময়ে পরীক্ষার জন্য উপস্থিতির শর্ত শিথিলযোগ্য বলেও সিদ্ধান্ত হয়।

তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে ডিনস কমিটির সভা উপাচার্য অফিস সংলগ্ন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, রেজিস্ট্রার, কলা অনুষদের ডিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, আইন অনুষদের ডিন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন, ফার্মেসি অনুষদের ডিন, আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সস অনুষদের ডিন, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন, চারুকলা অনুষদের ডিন, স্নাতকোত্তর চিকিৎসা, বিজ্ঞান গবেষণা অনুষদের ডিন, চিকিৎসা অনুষদের ডিন, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিস থেকে সকল বিভাগের চেয়ারম্যান ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কাছে এই সিদ্ধান্তের অনুলিপিসহ পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, নারী শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং শিক্ষার্থীর মাতৃত্বকালীন সময়ে পরীক্ষার জন্য উপস্থিতির শর্ত শিথিল প্রসঙ্গে। উপর্যুক্ত বিষয়ে ডিনস কমিটির ৫ জানুয়ারি সিদ্ধান্ত আপনার সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এতৎসঙ্গে সংযুক্ত করে প্রেরণ করা হল।

এর আগে সম্প্রতি নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি শিক্ষার্থীদের আবেদন যাচাই করে মতামত দিয়েছে, যা ডিনস কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল বা অন্য নীতিনির্ধারণী ফোরামে বিষয়টি যাবে। পদ্ধতিগত দিক থেকে এই প্রক্রিয়াটি চলমান আছে। তবে শিক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে যে মতামতগুলো এসেছে, সেগুলোর মধ্যে কিছু ফ্লেক্সিবিলিটি দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি রয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও নারী শিক্ষার্থীরা মাতৃত্বকালীন ছুটি পেয়ে থাকেন। মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মান (অনার্স) ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট বিভাগের ১৮ বছর এবং তার অধিক বয়সী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য গর্ভকালীন পরিস্থিতিতে তিন মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটানোর নিয়ম চালু হয়েছে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। এক্ষেত্রে ছুটির কারণে শিক্ষার্থী যদি কোনো সেমিস্টার পরীক্ষা মিস করেন, পরবর্তী সেমিস্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেই বিভাগের প্রধান বা চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে তা সমন্বয় করা হবে।

অন্যদিকে ২০২৩ সালে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার ঘোষণা দেয় দেশটির কেরালা বিশ্ববিদ্যালয়। নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা পুনরায় ভর্তি না হয়ে ছয় মাস পরে আবার ক্লাস শুরু করতে পারেন। কোর্স চলাকালীন শুধু একবার মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও এখনও কোনো নীতিমালা হয়নি। ফলে মাতৃত্বকালীন ছুটি কতদিন এবং কীভাবে দেওয়া হবে সেটি চূড়ান্ত হয়নি।