১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:১৫

দেড় বছরে দুজন ভাই পেয়েছি, দুই প্রোভিসিকে রাবির সাবেক ভিসি

রাবির সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের সঙ্গে দুই প্রোভিসি  © সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুজন প্রোভিসি (প্রশাসন ও শিক্ষা) সম্পর্কে সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেছেন, ‘আমি গত দেড় বছরে দুজন ভাই পেয়েছি। এই বন্ধন চিরকালের।’ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘তারা আর খুব বেশি দিন প্রোভিসি থাকবেন না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাদের এথিক্যাল স্ট্যান্ডার্ডের প্রোভিসি সহজে আর পাবে বলে মনে হয় না। আমার সাথে সাথে ঊনমানুষদের প্রচুর অপবাদ তারাও শুনেছেন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে তারা সহ্য করেছেন। তাদের দুজনের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসা।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘It is time to count my blessings (আমার প্রাপ্তিগুলো গণনা করার সময় এসেছে), আমার দুজন প্রোভিসি ছিলেন। প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন খান বহুদিনের চেনা। প্রফেসর মাঈন উদ্দীনকে নামে চিনতাম। তার বেশি কিছু না। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের মুখে শুনেছি, ভিসি, প্রোভিসিদের মধ্যে একধরনের ঠান্ডা লড়াই, কোনো কোনো সময় গরম। ব্যক্তিত্বের সংঘাত, ইত্যাদি। এইদিক থেকে আমরা তিনজন ছিলাম একেবারেই ব্যতিক্রম। এর থেকে সুন্দর টিম আমি কল্পনা করতে পারি না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন সম্পর্কে বলেন, ‘প্রফেসর মাঈন উদ্দীন আমার থেকে বয়সে বড়। অসম্ভব ধীরস্থির মানুষ। মাথা ঠান্ডা। চিন্তাভাবনা ছাড়া কিছু করেন না, বলেনও না। একজন ব্যক্তিত্ববান মানুষ। গত দেড় বছরে, যেটুকু মনে করতে পারি, দুইবার তার সাথে শক্ত কথা বলেছি। তিনি কিছু মনে রাখেননি। তার মহত্ব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান সম্পর্কে বলেন, ‘প্রফেসর ফরিদ উদ্দীন খান বয়সে ছোট। আমি বলতাম, Baby of the team। ফরিদ সাহেবের মনটা পানির মত স্বচ্ছ। একটু ইম্পালসিভ কিন্তু অসম্ভব শার্প। ফরিদ সাহেব বিস্তর বকা শুনেছেন। কিন্তু তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসাও হয়ত বুঝেছেন। ফরিদ সাহেবকে চিনতে পারা একটা প্রিভিলেইজ।’

আরও পড়ুন: রাবি ক্যাম্পাসেই ঈদ তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর, থাকছে বিশেষ উপহারও

তিনি আরো বলেন, ‘আমার দুই প্রো-ভিসির যেই বিশেষ দুই গুণ আমার অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং জীবনকে সহজ করেছে, তা হচ্ছে তাদের এথিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড এবং প্রশ্নাতীত সততা। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা দুজন মানুষ। আমি সততার জায়গায় তাদের দুজনের ওপর শতভাগ আস্থা রাখতে পেরেছি। এটা যে কত বড় স্বস্তি, তা বলে বোঝানো যাবে না।’

অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘শীর্ষ পদগুলোয় প্রশ্নবিদ্ধ চরিত্রের মানুষ থাকাটা একটা অভিশাপ। পার্সোনাল ফিলিংসের কথা যদি বলি, আমি গত দেড় বছরে দুজন ভাই পেয়েছি। এই বন্ধন চিরকালের।’

উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব। গত ১৬ মার্চ রাবির নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।