স্বপ্নপূরণে ঈদে বাড়ি ফিরছেন না বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী
রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের তিন পর্ব শেষে মুসলিমদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল-ফিতর উদযাপিত হয়। পবিত্র এই ঈদকে ঘিরে হাজারো জল্পনা-কল্পনা গড়ে উঠে মানুষের মাঝে। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরে যায় লাখো মানুষ। তবে এই স্রোতের বিপরীতে নীরব নক্ষত্রের মতো থেকে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্যাম্পাস গুলোর এক ঝাঁক স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থী।
নিজের স্বপ্ন কে পূর্ণতা দিতেই বাড়ি ফেরার তাড়া নিভিয়ে যায় তাদের, আর জ্বলে থাকে তাদের স্বপ্ন ও আশা। তাদের কাছে ঈদের ছুটি মানে পড়ার টেবিলে একটু বেশি আলো জ্বলানো। ক্যাম্পাসের নীরবতায় বইয়ের পাতায় ডুবে থাকা। তারা স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন দেখাই এবং নতুন স্বপ্ন তৈরি করে।
সম্প্রতি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের(ববি) কয়েকজন স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি তামজিদ হোসেন মজুমদারের সঙ্গে।
চাকরি প্রত্যাশী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শেরে-বাংলা হলের মাস্টার্স জোনের শিক্ষার্থী সৌরভ বলেন, ‘ঈদের পরে নিবন্ধন ও চাকরি পরীক্ষা থাকায় এবারের ঈদে বাড়ি যাচ্ছি না। আমার পড়াশোনা এখন প্রায় শেষের দিকে। এবারে ঈদে হলেই থাকা হবে। পরিবার ছেড়ে বাইরে ঈদ করতে কিছুটা খারাপ লাগলেও তা মানিয়ে নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে বাড়িতে গেলে পড়াশোনা থেকে একটু দূরত্ব তৈরি হয়। পড়াশোনা থেকে দূরত্ব যাতে না হয় সেজন্যই ঈদে বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না।’
চাকরি প্রত্যাশী শেরে বাংলা হলের শিক্ষার্থী উদ্দীন বলেন, ’সবাই যখন ঈদে পরিবারের কাছে যাচ্ছে, আমি এবার হলে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণটা শুধু একা থাকা না, এটা আমার লড়াইয়ের অংশ। আমি যে বিষয়ে অনার্স শেষ করছি, সেটার সঙ্গে চাকরির বাজারের সরাসরি মিল নেই। তাই আমাকে একটু বেশি সময়, বেশি পরিশ্রম দিতে হচ্ছে নিজের জায়গা তৈরি করতে।
গ্রামের মানুষ ছোটোবেলা থেকে দেখে আসছে আমি শুধু পড়াশোনা করি, কিন্তু এখনো ‘কিছু করি না’। তারা জানে না, আমাদের দেশে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করতে কত সময় লাগে, আর সেই পথটা কত কঠিন। তাদের কাছে চাকরি মানেই হয়ত এসএসসি পাশ করে কনস্টেবল বা আর্মিতে ঢোকা আর সেটাই মেধার মাপকাঠি।’
তিনি আরো বলেন,’আমরা যারা অনার্স করছি, অনেক সময় শুধু চাচা-চাচীর প্রশ্ন এড়াতেই ঈদে বাড়ি যেতে ইচ্ছে করে না। 'কিছু করলে না এখনো?' এই একটা প্রশ্নই ভিতরটা ভেঙে দেয়।
কিন্তু আমি পালিয়ে যাচ্ছি না। আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঈদের পরেই কয়েকটা নিয়োগ পরীক্ষা আছে। তাই এই সময়টা আমি নিজের জন্য বিনিয়োগ করছি।
হয়-তো আজ পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দটা মিস করছি, কিন্তু আমি জানি এই ত্যাগটাই একদিন আমাকে ‘বেকার’ শব্দটা মুছে ফেলতে সাহায্য করবে। আর সেই দিনটাই হবে আমার এবং আমার পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড়ো ঈদ।”
শুধু চাকরি প্রত্যাশী নয়, এই ঈদে বাড়ি ফেরা হবে না বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর।
ঈদে পরে ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না শিক্ষার্থী হাবিবের, তিনি বলেন,’ঈদের পরে আমাদের সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হবে। আমার আগের সেমিস্টার গুলোর রেজাল্ট খুব ভালো হয়নি। তাই এই সেমিস্টারের প্রস্তুতি যাতে ভালোভাবে নেওয়া যায়, সেজন্য বরিশালে থাকা। আর আপনি বুঝেনই পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগের ছুটির সময়টা কতটা ইম্পর্ট্যান্ট। তাই এসময় টাকে কাজে লাগানোর জন্য এই ঈদে বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, পবিত্র রমজান, শবে-কদর, ঈদুল ফিতর এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২৪ দিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খান সানজিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যে জানানো হয়।