১৫ মার্চ ২০২৬, ১৭:৩৫

‘গেস্টরুম-গণরুম ও ফ্যাসিবাদী নির্যাতন’ নিয়ে ডাকসুর স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতা ঘোষণা

ডাকসুর সংবাদ সম্মেলন  © টিডিসি ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ছাত্রলীগ কর্তৃক পরিচালিত ‘গেস্টরুম-গণরুম’ সংস্কৃতি ও ফ্যাসিবাদী নির্যাতনের ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। আজ রবিবার (১৫ মার্চ) ডাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী। 

সম্মেলনে জানানো হয় জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে গেস্টরুম-গণরুমের অন্ধকার সময় শেষ হলেও, ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সঠিক ইতিহাস চর্চা ও সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই আয়োজন। এই প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বর্তমান ও সাবেক সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারবেন। নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী বা নির্ভরযোগ্য জবানবন্দির ভিত্তিতে যেকোনো স্মৃতিচারণমূলক লেখা পাঠানো যাবে।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে যেখানে প্রথম পুরস্কার হিসেবে থাকবে ৩০,০০০ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার: ২০,০০০ টাকা, তৃতীয় পুরস্কার ১০,০০০ টাকা, চতুর্থ পুরস্কার ৫,০০০ টাকা ও পঞ্চম পুরস্কার ৩,০০০ টাকা।
এছাড়া ৬ষ্ঠ থেকে ৫০তম স্থান অধিকারীদের প্রত্যেকের জন্য ১,০০০ টাকা করে পুরস্কার থাকবে। বিজয়ীদের ক্রেস্ট ও সকল অংশগ্রহণকারীকে সনদ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি বাছাইকৃত লেখাগুলো নিয়ে একটি বিশেষ সংকলন প্রকাশ করবে ডাকসু।

সংবাদ সম্মেলনে মুসাদ্দিক আলী বলেন, যারা গেস্টরুম-গণরুমের ভয়াবহতা পর্যবেক্ষণ করেছে তাদের কাছে নতুন করে আতঙ্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে নবগত শিক্ষার্থীদের জন্য আবারও তা ফিরে আসবে কিনা। আমরা চাই না নবগত শিক্ষার্থীদের 'গিনিপিগ' বানিয়ে রাজনৈতিক সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হোক।

গেস্টরুমে শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণহানির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো, হকিস্টিক দিয়ে মারা, নখ তুলে ফেলা এমনকি ৩ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। হাফিজুর নামের এক শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু এবং মহসিন হলে আহত শিক্ষার্থীর ওপর পুনরায় বর্বরোচিত হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি গেস্টরুমকে ‘মূর্তমান আতঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেন।

এছাড়া সম্মেলনে ডাকসুর ক্রিয়া সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, গণরুমে থাকার ফলে প্রত্যেকটা স্টুডেন্ট যে পরিমাণ স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতো, সেই স্বপ্ন প্রথম ২-৩ মাসেই ভঙ্গ হয়ে যেতো। আমরা চাই এই ধরনের যে ইতিহাস, এই ইতিহাস আমরা তুলে ধরতে চাই। আমরা ডাকসুর মাধ্যমে প্রত্যেকটা সেশনের প্রত্যেকটা স্টুডেন্টের কাছে আবেদন জানাতে চাই—তাদের গল্পগুলো উঠে আসুক, মানুষ জানুক যে কী পরিমাণ ভয়াবহতার ভেতরে আমরা গিয়েছি।