সাইবার বুলিং অভিযোগে জাবি শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার, তদন্ত কমিটি গঠন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনাটির তদন্তে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তামালিকা সুলতানাকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
একটি অফিস আদেশে জানানো হয়, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শৃঙ্খলাসংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮’-এর ৪ (১) (খ) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবেন না।
অন্য এক অফিস আদেশে বলা হয়, ইংরেজি বিভাগের ৫১তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং, অশালীন ভাষা ব্যবহার ও হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রণীত ‘শৃঙ্খলাসংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮’ অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর ড. মো. আল-আমিন খান, সহকারী প্রক্টর সামসুন্নাহার খন্দকার এবং সহকারী প্রক্টর ড. সাহাদাত হোসেন। ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. সোহেল রানা কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি দেয়াল গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানী। ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মনিষা সরকার আপত্তি জানালে তাকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষা ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।