১২ মার্চ ২০২৬, ১৯:১৪

সাময়িক বহিষ্কার হওয়া ঢাবির সেই ৮ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কারে শোকজ নোটিশ

তোফাজ্জল হোসেন  © ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া সম্পূরক চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক থাকা ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওই হলের অতিথি কক্ষে রাতে ৩২ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেন নির্যাতনের শিকার হন। ওইদিন রাত ১২টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। পাশাপাশি ওই ৮ জনের আবাসিক সিটও বাতিল করেছিল হল প্রশাসন। পরে হল প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন স্থায়ীভাবে তাদের বহিষ্কার করা হবে না, আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তার কারণ দর্শানোর জন্য সাময়িক বহিষ্কার হওয়া এই ৮ ছাত্রকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গত ৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে গত ১৮-০৯-২০২৪ তারিখে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাথে আপনার সংশ্লিষ্টতা থাকায় (হল প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী) সিন্ডিকেটের ০২-০১-২০২৫ তারিখের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপনাকে কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তার কারণ দর্শানোর জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো।

নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন- ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও হল ছাত্রলীগের সাবেক উপ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক জালাল মিয়া, হল ছাত্রলীগের গণযোগাযোগ ও উন্নয়নবিষয়ক উপ-সম্পাদক আহসান উল্লাহ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আল হোসাইন সাজ্জাদ, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সুমন মিয়া, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মুত্তাকীন সাকিন শাহ, সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াজিবুল আলম, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ফিরোজ কবির এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আবদুস সামাদ।