উদ্যোগের সাড়ে তিন বছর পর ঢাবিতে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি মুখ দেখল
সাড়ে তিন বছর আগে ২০২২ সালের শেষের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি শুরু হওয়ার কথা ছিল। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছিল, কিন্তু পদক্ষেপটি আর এগোয়নি।
ওই বছরের ১২ অক্টোবর তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় সর্বপ্রথম শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করা হয় এবং এর জন্য একটি নীতিমালাও তৈরি করা হয়। এ সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তীতে ৩০ অক্টোবর সিন্ডিকেট সভায় এটি অনুমোদিত হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুন থেকে শিক্ষক মূল্যায়ন কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা ছিল। পরে জুলাই মাসে এর কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফলে এই উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। পরবর্তীতে ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান দায়িত্ব নিয়ে ২ সেপ্টেম্বর তিনি ঘোষণা করেন, শিক্ষার্থীদের মতামত ও চিন্তাধারার ভিত্তিতে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে।
এরপর শিক্ষক মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল অনলাইনে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি (Teaching Evaluation System-TES) প্রস্তুত করে। অবশেষে উদ্যোগের সাড়ে তিন বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোর মুখ দেখল শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের (এসএমটি) এক সভায় শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদকে তিনি এই দায়িত্ব দেন। পাশাপাশি একটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে থাকছেন অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
এছাড়া সদস্য হিসেবে থাকছেন আরও চারজন। তারা হলেন-কলা অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, ফার্মেসি অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. উপমা কবির।
শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হলে কোন শিক্ষক কেমন পড়ান, তার কোর্সের বিষয়বস্তু কেমন, তিনি সময়মতো ক্লাসে যাচ্ছেন কিনা, কোর্স ম্যাটারিয়ালস সরবরাহ করছে কিনা, মিডটার্ম, এসাইনমেন্ট ঠিকমতো নিচ্ছেন কিনা এবং সেগুলো ঠিকমতো মূল্যায়ন হচ্ছে কিনা-এসবসহ সার্বিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানা গেছে।