০৯ মার্চ ২০২৬, ২১:২৩

ইমির মুক্তির দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ

ইমির মুক্তির দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ  © টিডিসি ছবি

ছাত্রলীগ সমর্থিত টিএসসিভিত্তিক সংগঠন ‘স্লোগান ৭১’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির মুক্তির দাবিতে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রভাবিত করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। আজ সোমবার (৯ মার্চ) রাত সাড়ে আটটায় ‘ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছি, মবসন্ত্রাসকেও তাড়াব’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।

এ সময় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ বলেন, একের পর এক যে মব সন্ত্রাস— সেই মব সন্ত্রাসের দৌড়াত্ম এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে থানার মধ্যে সেই সন্ত্রাসী কার্যক্রমটা চলছে। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের একজন কর্মীকেও মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক মামলার মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে, যেমনটা করা হত শেখ হাসিনার আমলে সেই একই ধরনের প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি বর্তমান পুলিশ এবং বর্তমান সরকারের মধ্যে।

বাহাউদ্দিন শুভ বলেন, আমরা চাই পুলিশ প্রশাসন সঠিক প্রক্রিয়ায় সঠিক ন্যায্য তদন্তের ভিত্তিতে যে কোন ব্যাপারে অ্যাকশন নেবে। যদি কেউ কোন ফজদারী অপরাধ করে থাকে, তাহলে অবশ্যই পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং তার ব্যাপারে আদালতের বিচারের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সাজা হওয়া উচিত।

তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, যদি এই ঘটনা আবারও ঘটতে থাকে, তাহলে আমরা ছাত্র ইউনিয়ন সারা বাংলাদেশের সমস্ত শিক্ষার্থী এবং সারাদেশের সমস্ত জনতাকে সাথে নিয়ে তার প্রতিবাদ জানাব এবং তা রুখে দিব।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শিমুল কুম্ভকার বলেন, যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম আযমের ছবি প্রদর্শন করা হয়, তবে আমরা কেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বা ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচার করতে পারব না? মবের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের মেরে ফেলে তাদের দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চাই, যেখানে অপরাধীর বিচার হবে প্রচলিত আইন ও আদালতে। কোনো সভ্য দেশে মব জাস্টিস বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমর্থন করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, নারীদের নিরাপত্তার বিষয়েও আমাদের কথা বলতে হবে। জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে কোনো নারী কথা বললে তাকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয়। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বর্তমান সরকারকে মনে রাখতে হবে তারা ক্ষমতায় এসেছে নারী এবং প্রগতিশীল শক্তির ভোটে। সুতরাং এই মব কালচার এবং কাল আইন বন্ধ করতে হবে।