০৮ মার্চ ২০২৬, ২২:৫৯

পোষ্য কোটায় ভর্তিতে নম্বর বেধে দিল জাবি প্রশাসন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়   © সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় সন্তান ভর্তি’ পোষ্য কোটায় ভর্তির জন্য ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ নম্বর নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রবিবার (৮ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান জানান, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় ভর্তির ক্ষেত্রে বর্তমান প্রশাসন বেশ কিছু সংস্কার এনেছে, যাতে এটি আরও ন্যায্য ও যৌক্তিক পর্যায়ে আসে।

 তিনি বলেন, আগে ঔরসজাত সন্তানের পাশাপাশি দত্তক সন্তান, ভাই-বোন ও স্বামী-স্ত্রীও এই সুবিধায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেতেন। তবে বর্তমানে শুধু ঔরসজাত সন্তানদের জন্যই এ সুযোগ রাখা হয়েছে।

উপাচার্য আরও জানান, আগে বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোতে এই কোটা নির্ধারিত না থাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হতো। বর্তমানে সংস্কারের মাধ্যমে প্রতি বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে সর্বোচ্চ চারজন নির্ধারণ করা হয়েছে এবং মোট সংখ্যা ৪০ জনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্মরত, সেই বিভাগে তার সন্তান ভর্তির সুযোগ থাকবে না। একইসঙ্গে ভর্তির জন্য ন্যূনতম পাশ নম্বরও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে শতকরা ৩৫ নম্বর পেলেই ভর্তি হওয়া যেত, সেখানে চলতি শিক্ষাবর্ষে তা বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে। গত শিক্ষাবর্ষে এই সীমা ছিল ৪০ শতাংশ।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আমন্ত্রণ সত্ত্বেও শিক্ষক সমিতি, অফিসার সমিতি, কর্মচারী সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়ন সভায় অংশ নেয়নি। তারা চিঠির মাধ্যমে জানায়, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় সন্তান ভর্তি বিষয়টি ইতোমধ্যে ‘মীমাংসিত’। একই কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নেতৃবৃন্দও সভায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।

এ বিষয়ে জাকসু জিএস মাজহার ইসলাম বলেন, প্রশাসন যে ‘মীমাংসিত’ বলেছে, তা সম্ভবত গত বছর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া সিদ্ধান্তকে বোঝাতে চেয়েছে। সে সময় ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠন সংস্কারের বিষয়ে মত দিয়েছিল। এটি শুধু জাকসুর একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল।

সভায় জাকসু অংশ না নেওয়ার কারণ নিয়ে তিনি বলেন, সভায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার উপস্থিত ছিলেন না। আমরা চেয়েছিলাম সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক এবং এজন্য সভার তারিখ পেছানোর অনুরোধও করেছিলাম। তবে প্রশাসন আজই সভা করেছে। আমাদের মতে, ৪৫ শতাংশ কোটা ইস্যুসহ এসব বিষয়ে সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এবিএম আজিজুর রহমান এবং উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ আলী রেজা প্রমুখ।