০৫ মার্চ ২০২৬, ২০:৩৪

আমি বিরক্ত হচ্ছি, তবে...

কথা বলছেন ঢাবি উপাচার্য  © টিডিসি সম্পাদিত

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য পদ থেকে সরে যেতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নতুন কাউকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেয়নি সরকার। ফলে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।

এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিছুটা বিরক্ত হচ্ছেন তিনি। তবে নিখুঁতভাবে সরকার এটি করতে (নতুন উপাচার্য নিয়োগ) গিয়ে একটু সময় নিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও ছাত্র নেতাদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এ নিয়ে কথা বলেন তিনি। 

এ সময় অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, দায়িত্ব ছাড়ার ব্যাপারে আমি এখনো সরকারের অনুমতি পাইনি। এজন্য আমি অপেক্ষা করছি। এই পরিবর্তন অত্যন্ত জটিল। এটা নিখুঁতভাবে করতে সরকারের একটু সময় লাগে। এজন্য আমি বিরক্ত হচ্ছি কিন্তু রাগ করছি না।

উপাচার্য বলেন, আজকে থেকে দেড় বছর আগের অবস্থার সাথে যদি তুলনা করি, তাহলে বলা যায় আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের একটা ভালো উদাহরণ আমরা গত দেড় বছরে তৈরি করেছি। আমি ছাত্রসংগঠনগুলোকে বলতে চাই, শান্তি ও সম্প্রতির একটা ভালো উদাহরণ তোমরা গত দেড় বছরে তৈরি করেছ।

উপাচার্য আরও বলেন, আমি এখন পড়ন্ত বিকেলের পরিব্রাজক। আমি তোমাদের দোয়া চাই এবং তোমাদের জন্যও দোয়া করি।

এ সময় অনুষ্ঠানে ঢাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, রমজান আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। আমাদের মধ্যে মতের ভিন্নতা আছে, পথের ভিন্নতা আছে। কিন্তু সবাই একত্রে চলায় ঐক্যবদ্ধ। আমরা সবাই একসাথে চলতে চাই। আমাদের লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। আমরা সবাই এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় চাই, যেটা পরিচালিত হবে গণতান্ত্রিক উপায়ে ও মেধার ভিত্তিতে। মতের ভিন্নতা থাকলেও আমাদের মধ্যে যে ঐকমত্য, এটাই হচ্ছে সৌন্দর্য। আমরা এই সৌন্দর্যকে অক্ষুণ্ন রাখতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সবার উদ্দেশ্য হচ্ছে একটাই। তা হলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা। এটি নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। আমি সবাইকে সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রত্যয়ে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। 

ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েমের সভাপতিত্বে ও জিএস এস এম ফরহাদের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, ডাকসুর ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঢাবির বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ডাকসু ও হল সংসদ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।