০৫ মার্চ ২০২৬, ১৪:০০

ঢাবিতে বহিরাগত কর্তৃক শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, যা জানা যাচ্ছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল  © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে পথশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হলসংলগ্ন ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয় বলে জানিয়েছে ঢাবি প্রশাসন। তবে পুলিশ বলছে, ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় থানা গেটের সামনে থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আটককৃত যুবক ওই পথশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করার পরে সেখানে দায়িত্বরত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন। তাৎক্ষণিকভাবে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পরে অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলার বাদী হতে কেউ রাজি না হওয়ায় তাকে আটক রাখা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না মর্মে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংলগ্ন এলাকায় এক যুবককে আটকের ঘটনার বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ক্যাম্পাসে খাবার ডেলিভারি দিতে আসা এক যুবক ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বসে থাকা এক পথশিশুর সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় ভয় পেয়ে মেয়েটি সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরা ওই যুবককে আটক করেন জানিয়ে ওসি বলেন, ঘটনাস্থলে ডাকসুর সদস্য ও অন্য শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে তাকে শাহবাগ থানা গেটের সামনে নিয়ে আসা হলে পুরো বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা কর্মীরা নিশ্চিত হন যে, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল। কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য প্রমাণিত না হওয়ায় ঢাবির নিরাপত্তা কর্মীরা যুবকটিকে সেখান থেকেই ছেড়ে দেন। 

ওসি আরও বলেন, ওই যুবককে থানার ভেতরেও প্রবেশ করানো হয়নি এবং বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কর্মীদের তত্ত্বাবধানেই সমাধান হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনা সম্পর্কে জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা নিজের ফেসবুক একাউন্টে এক স্ট্যাটাস দেন। 

বিষয়টি নিয়ে ‘এক কলঙ্কময় রাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শিরোনামে দেওয়া পোস্টে সর্ব মিত্র লেখেন, ‘মাহবুবুর রহমান, কাজ করেন পার্শ্ববর্তী পলাশী মার্কেটে, দুধ সাপ্লাইয়ের কাজ করেন। আজ রাতে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পার্শ্ববর্তী ফুটপাতে এক পথশিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় হাতেনাতে ধরা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের হাতে।

আরও পড়ুন: ঢাবি ক্যাম্পাসে পথশিশুকে ‘ধর্ষণচেষ্টা’, শিক্ষার্থীদের হাতে আটক যুবক

তিনি আরও বলেন, সিভিল সোসাইটির শর্তানুযায়ী কোনো ধরণের শারীরিক আঘাত ছাড়াই তাকে শাহবাগ থানায় আনা হয়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা আমাকে ফোন দিয়ে জানায় এবং তৎক্ষণাৎ থানায় যাই। অভিযুক্ত তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে।তিনি জানান , শয়তানের প্ররোচনায় তিনি এ কাজ করেছেন, তিনি জানেন না তিনি কীভাবে এ কাজ করতে গেছিলেন।

শিশুটির নিরাপত্তার শঙ্কা প্রকাশ করে ডাকসুর এ সদস্য বলেন, বাচ্চা শিশুটার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছি। সাধারণত ধর্ষ/ণ চেষ্টায় খুব একটা সিগ্নিফিকেন্ট প্রমাণাদি থাকে না। কৌশলে জিজ্ঞেস করলে সে মোটামুটি স্বীকার করে , কিন্তু এটা কনক্রিট কোনো প্রমাণ না। মামলার খরচ চালানো, আইনি জটিলতা ইত্যাদির কারণে মামলার বাদী হিসেবে কেউ থাকতে না চাওয়ায় মামলা না দিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

শেষে তিনি বলেন, ‘যারা কথায় কথায় আইনের দোহাই দেন, এবার একটু চোখ খুলুন। দেখুন, আমি আইনের বাইরে যেতে পারিনি আজ! আইন কতভাবে আমাদের হাত-পা বেধে রেখেছে, দেখুন!’