০৩ মার্চ ২০২৬, ১৩:২১

উদ্বোধনের আগেই বেহাল জাবির ৪ কোটি টাকার খেলার মাঠ

জাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ-১-এর সীমানাপ্রাচীর এখনো নির্মাণ করা হয়নি। এতে অবাধে অনেকেই মাঠে ঢুকে হাঁটাহাঁটি করেন  © টিডিসি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ-১ উদ্বোধনের আগেই অযত্ন ও অব্যবস্থাপনায় বেহাল অবস্থায় পড়েছে। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর না হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের স্পষ্ট দায়িত্ব নির্ধারিত হয়নি। ফলে সীমানাপ্রাচীর ও তদারকির অভাবে মাঠটিতে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশে নতুন অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের আগেই যদি এমন অবস্থা তৈরি হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে মাঠটির কাঠামোগত ও আর্থিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নবনির্মিত এই অবকাঠামো তার প্রত্যাশিত মান ধরে রাখতে পারবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আল বেরুনী হলের পেছনে প্রায় ২০ বিঘা (প্রায় ৩ লাখ বর্গফুট) জায়গাজুড়ে ফুটবল ও ক্রিকেটের জন্য যৌথভাবে নির্মাণ করা হয়েছে এই মাঠ। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে বিশেষায়িত ক্রিকেট পিচসহ আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া ভেন্যু গড়ে তোলার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া অবকাঠামোয় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, যথাযথ তদারকি না থাকায় মাঠে নিয়মিত অননুমোদিত ব্যবহার চলছে। অবাধ চলাচল ও খেলাধুলার কারণে নতুন লাগানো ঘাস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং মাটির ওপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নির্দিষ্ট প্রবেশপথ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় মাঠের বিভিন্ন অংশে অনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান রাব্বি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা একটি মানসম্মত খেলার মাঠের অপেক্ষায় ছিলাম। এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে নির্মিত মাঠটি উদ্বোধনের আগেই যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেটি খুবই হতাশাজনক। দ্রুত সীমানাপ্রাচীর ও নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিদুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন বিকেলে দেখি অনেকেই মাঠে হাঁটাহাঁটি করছে, কেউ কেউ ফুটবল খেলার জুতা পরেই নতুন ঘাসের ওপর খেলছে। এখনো ঠিকভাবে উদ্বোধনই হয়নি, এর মধ্যেই এমন অবস্থা হলে পরে তো আর ঠিক রাখা কঠিন হবে। অন্তত চারদিকে অস্থায়ী বেড়া আর নিরাপত্তাকর্মী রাখা উচিত।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন জানান, মাঠের ক্ষয়ক্ষতি রুখতে এবং বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সোহেল রানাকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (২ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক আবদুর রবের উপস্থিতিতে পর্যবেক্ষণ কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, মাঠের অবশিষ্ট প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান খুব শিগগির তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবে। তবে মাঠটি কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।