ডাকসুর উদ্যোগে খামেনির গায়েবানা জানাজা ও বিক্ষোভ মিছিল
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গায়েবানা জানাজা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর এলাকায় জড়ো হয়ে ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে গায়েবানা জানাজা শুরু করেন। জানাজায় ইমামতি করেন ডাকসু সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক (কায়েম)।
এতে ডাকসু নেতাদের সাথে কিছু শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় তারা ‘ইনকিলাব ইনকিলাব জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘শহীদ খোমেনি লউ লউ লউ’ এবং ‘খামেনির স্মরণে, ভয় করিনা মরণে’, ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস হোক, নিপাত যাক’ সহ নানা স্লোগান দেন।
জানাজা শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া প্রদক্ষিণ করে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সাদিক কায়েম বলেন, ‘আজকে সারা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ওপর জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ননের কারণ হলো মুসলিম বিশ্ব অনেক বেশি বিভাজনে লিপ্ত হয়ে গেছি।’ তিনি বাংলাদেশ থেকে মুসলিম বিশ্বের সকল যুবক ও রাষ্ট্রপ্রধানদেরকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস আছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, মুসলমানরা হচ্ছে একটি দেহের মতো। দেহের কোনো অঙ্গে যখন কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়, সারা শরীর যেমন ব্যথা করে, ঠিক একইভাবে সারা বিশ্বের মুসলমানরা কোনো এক প্রান্তে যদি কেউ আহত হয়, কেউ যদি শহীদ হয়, তাহলে সকল মুসলমানরা যেন তাকে ধারণ করে।’
একই সাথে তিনি ঢাকাকে বিশ্বের ‘সলিডারিটি হাব’ এ রূপান্তর করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকেই মুসলিম বিশ্বের আজাদি আন্দোলনে আমরা নেতৃত্ব দিব, ইনশাল্লাহ।’
ডাকসু ভিপি বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমরা যে নেতৃত্ব দিব, সেই নেতৃত্বের মাধ্যমে আগামীর ফিলিস্তিন মুক্ত হবে, কাশ্মীরের মজলুমরা আজাদি পাবে, উইঘুরের মুসলিমরা আজাদি পাবে, রাখাইনের মজলুমরা মুক্তি পাবে, ইরানের মজলুমরা মুক্তি পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আদর্শিক অমিল থাকতে পারে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে, জুলুমের বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে কথা বলতে হবে। আমরা যদি কথা না বলে চুপ থাকি, তাহলে আজকে ইরানের, ফিলিস্তিনের ওপর যে হামলা হচ্ছে, ঠিক একই হামলা আমার দেশের ওপর হবে, মুসলমানদের ওপর হবে।’