ছাত্রীকে বাসায় আটকে নির্যাতন, অভিযুক্ত সেই সাবেক শিক্ষার্থীর সনদপত্র স্থগিত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের একজন নারী শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক আটক রেখে নির্যাতনের অভিযোগে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি)-এর ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী এস. এম. তারিকুল ইসলামের সনদপত্র স্থগিত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জাবি প্রশাসন জানিয়েছে সনদপত্র স্থগিতকরণের পাশাপাশি এই ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, আনুমানিক সন্ধ্যার দিকে বীর প্রতীক তারামন বিবি হল থেকে হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী ইসলামনগরে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে উক্ত শিক্ষার্থীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে তাকে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহম্মদ মাফরুহী সাত্তারকে সভাপতি করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরীফুল হুদা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসরীন সুলতানা, এবং সদস্য সচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার (উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি) লুৎফর রহমান আরিফ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ শনিবার বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ উপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার , প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন।
উল্লিখিত ঘটনায় অভিযুক্ত ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী এস. এম. তারিকুল ইসলাম এর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরসহ সকল সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একইসাথে অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা এবং উপর্যুক্ত ঘটনায় রাষ্ট্রীয় আইনে দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত-এর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকল্পে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক সর্বপ্রকার সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।