২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:০০

সবজি অপচয় রোধে প্রযুক্তি, বেকারিতে পুষ্টি সংযোজনে বাকৃবির তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প

কর্মশালায় বক্তারা   © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বেকারি পণ্যে সবজি ফ্লেক্স (শুকনা বা গুঁড়া করা সবজি) সংযোজনের মাধ্যমে পুষ্টিমান বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে নতুন গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিকে শিল্পখাতে পৌঁছে দিয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনের উদ্দেশ্যে হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ‘ভেজিটেবল ফ্লেক্স ফর বেকড প্রোডাক্টস ফর্টিফিকেশন: বিএইউ-আইএফএডি কোলাবোরেশন ফর ইটস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড কমার্শিয়ালাইজেশন’ শীর্ষক কর্মশালার মাধ্যমে তিন বছর মেয়াদি এ গবেষণার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলনকক্ষে সূচনা কর্মশালার আয়োজন করে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ও বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলজারুল আজিজ। তিনি জানান, শুধু বেকারি পণ্যের জন্য বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১০০ মেট্রিক টন সবজি ফ্লেক্স আমদানি করতে হয়। অথচ দেশে মৌসুমে বিপুল পরিমাণ পুষ্টিকর সবজি উদ্বৃত্ত থাকে, যা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত সুবিধার অভাবে অপচয় হয়। আধুনিক প্রযুক্তিতে এসব সবজি শুকিয়ে ফ্লেক্সে রূপান্তর করা গেলে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

পাশাপাশি রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যে তা সংযোজন করে ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন করা যাবে। এতে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং দেশীয় কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজন হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের আওতায় উপযোগী সবজি নির্বাচন, মানসম্মত প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ এবং বেকারি পণ্যে ভোক্তা গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে শিল্পখাতে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাজারজাতকরণ কৌশলও প্রণয়ন করা হবে।

ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা এবং ইফাদ মাল্টি প্রডাক্ট লিমিটেড-এর জেনারেল ম্যানেজার জাকির হোসেন মন্ডল।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতি ও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে গবেষণাই প্রধান চালিকাশক্তি। এখন থেকে সর্বোচ্চ বাজেট সংগ্রহ করে মানসম্মত ও পরিশ্রমনির্ভর গবেষণা সম্পন্ন করলে সংশ্লিষ্ট গবেষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, গবেষণার আনন্দ একবার অনুভব করলে একজন শিক্ষক গবেষণা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারেন না। তবে গবেষণাকে শুধু একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তা শিল্প ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ক্লাস ও পরীক্ষার প্রতি শিক্ষকদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী ক্লাস বা ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় না থাকে।