২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:২০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পিডিএফের ১৫ সদস্য পাচ্ছেন শিক্ষা বৃত্তি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (পিডিএফ) সদস্যদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সংগঠনটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পিডিএফের ১৫ জন সদস্যকে এই বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও সহজ ও গতিশীল হবে।

রাবি শাখা পিডিএফের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে আমাদের সংগঠনের মাত্র ৫ জন সদস্যের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা থাকলেও তা ছিল খুবই সীমিত ও প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। এ কারণে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপির মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করি, যার মধ্যে বৃত্তি বৃদ্ধির বিষয়টি ছিল সবচেয়ে জোরালো দাবি।’

ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৫ জন শিক্ষার্থীকে মাসিক বৃত্তি প্রদানের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তাদের শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেশ্যাল চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থীদের সংগঠন পিডিএফের সদস্যদের জন্য আগে ৫ জনকে যে অর্থসহায়তা প্রদান করা হতো, তা বৃদ্ধি করে ১৫ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব মাননীয় উপাচার্য মহোদয় অনুমোদন করেছেন। এর ফলে আরও বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়মিত মাসিক আর্থিক সহায়তা পাবে এবং তাদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনেক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, যারা অন্যদের তুলনায় শারীরিকভাবে দুর্বল বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তারা অনেক সময় টিউশনি বা অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে তাদের জন্য নিয়মিতভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে।’