নিজের পদ বদলে ‘প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (ফাইন্যান্স অ্যান্ড ট্রেজারার)’ চান ঢাবি কোষাধ্যক্ষ
নিজের পদবির পরিবর্তন চান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এজন্য সম্প্রতি উপাচার্য (সদ্য সাবেক) অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বরাবর চিঠিও দিয়েছেন তিনি; যা যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে আলাপকালে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, এই পরিবর্তন মর্যাদা বৃদ্ধি বা হ্রাসের কোনো উদ্যোগ নয়; বরং পদটির নাম আধুনিক ও আন্তর্জাতিকভাবে বোধগম্য করার প্রস্তাব। তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকলেও ‘ট্রেজারার’ শব্দটি সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট নয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একাডেমিক কাঠামোয় এ নামটি খুব পরিচিত নয়।
বিভিন্ন দেশে একই ধরনের পদকে ‘প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (ফাইন্যান্স)’, ‘ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ বা ‘প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্ল্যানিং)’—ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়। এ প্রেক্ষাপটে তিনি পদটির নাম পরিবর্তন করে এমন একটি নাম প্রস্তাব করেছেন; যা থেকে পদের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি সহজেই বোঝা যায়। এজন্য আমরা ট্রেজারার পদকে রিনেম (নতুন নামকরণ) করে ‘প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (ফাইন্যান্স অ্যান্ড ট্রেজারার)’ করার প্রস্তাব করেছি।
অধ্যাপক জাহাঙ্গীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশে শুধু উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষর কাজ সুনির্দিষ্ট। প্রো-ভাইস চ্যাঞ্চেলরের নির্দিষ্ট কোনো কাজ নেই। তাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তিনি সেটাই করবেন। উদাহারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের নজির রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলরই সব কাজ করেছেন। প্রো-ভিসিকে কোনো কাজই দেওয়া হয়নি।
কোষাধ্যক্ষ বলেন, প্রস্তাবিত পরিবর্তনে দায়িত্ব, বেতন-ভাতা বা প্রশাসনিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে বিদ্যমান ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে। কেবল নাম পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে পদটির কার্যকারিতা ও তাৎপর্য স্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।